কালীগঞ্জে শিহাবের রঙিন মাছ চাষে স্বপ্ন পূরণ

কালীগঞ্জে শিহাবের রঙিন মাছ চাষে স্বপ্ন পূরণ

আরিফ মোল্ল্যা, ঝিনাইদহ ॥
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে শিহাব উদ্দীন নামের এক কলেজ ছাত্র লেখাপড়ার পাশাপাশি বানিজ্যিকভাবে রঙিন মাছ চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছে। সে নিজ বাড়িতে ৮ টি হাউজে এ মাছ চাষ করছে। বাসাবাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অফিস আদালতের এ্যাকুউরিয়ামের মধ্যে যারা সৌখিনভাবে মাছচাষ করেন তারা বাড়ির ওপর থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এখান থেকে বেশ পয়সা আসছে তার। শিহাব যশোর সিটি কলেজের বানিজ্য বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র ও উপজেলার হাসানহাটি গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।

সরেজমিনে শিহাব উদ্দীনের বাড়িতে গেলে দেখা যায়,দশ ফুট লম্বা ও পাঁচ ফুট চওড়ার ছয়টি ও পাঁচ ফুট লম্বা ও দুই ফুট চওড়ার দুইটি মিলে মোট আট টি হাউজে চাষ করা হচ্ছে বিদেশী জাতের রঙিন মাছ। যে মাছগুলো আকারে ছোট হলেও বেশ সতেজ ও নানা রঙের।

শিহাব উদ্দীন জানায়, তার বাবা একজন কৃষক। মাঠে তাদের ৪ বিঘা চাষযোগ্য জমি আছে। সে ছাড়াও ইয়াসমিন নামের তার এক বোন যশোর সিটি কলেজে লেখাপড়া করে। ছোট ভাই ফরহাদ ৮ম শ্রেণীতে পড়ে। তাদের ৩ ভাই বোনের লেখাপড়ার খরচ যোগানো তার বাবার জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাই সে ভাবছিল লেখাপড়ার পাশাপাশি অল্প পুঁজিতে স্বল্প সময়ে কিছু একটা করার কথা।

শিহাব আরো জানায়, তাদের এলাকার হাট বারোবাজার দেশের দক্ষিণাঞ্চালের মধ্যে অন্যতম বড় মাছ চাষের অঞ্চল। কেননা এ অঞ্চলে রয়েছে হাজার হাজার পুকুর বা দীঘি। রয়েছে বেশ কয়েকটি বাওড়। যেখানে বানিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করে কয়েক হাজার মৎসজীবি জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তাদের মধ্যে একটি মাধ্যম থেকে জেনে এবং উৎসাহিত হয়ে এ জেলায় প্রথম রঙিন মাছ চাষ করার স্বপ্ন দেখা শুরু করে।

এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মাছ ব্যবসায়ী সাইফুল গাজীর নিকট থেকে মা মাছ ও কিছু পুরুষ মাছ মিলে ৩০ টি গাপ্পি মলি, গোল্ডফিস ১৮ টি, কমেন্ট ১২ টি, রেডটিকা ১২ টি, কইকাপ ১৬ টি, প্লাটি জাতের ৩০ টি মিলে মোট ১৮ হাজার পাঁচশ টাকার মাছ কিনে আনে। এগুলো আগে থেকে তৈরী করে রাখা বাড়ির পাশের হাউজে ছেড়ে দিয়ে পরিচর্যা শুরু করে।

এর মাত্র ২ মাস পরেই মা মাছগুলো ডিম ছেড়ে রেনু পোনার জন্ম দিতে থাকে। প্রায় মাস খানেক এখানে রেখে রেনু পোনাগুলো একটু বড় করতে অপেক্ষাকৃত বেশি পানির পুকুরে ঘন নেটের মধ্যে ছেড়ে দেয়া দেয়। এরপর সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই আটকা নেটের মধ্যে বেশ বড় হয় বাহারী রঙের এ মাছের রেনুগুলো। এরপর এখান থেকে উঠিয়ে বাসা বাড়ি, বিভিন্ন অফিস আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শোভা বর্ধনে সৌখিন মাছ চাষিরা কাঁচের তৈরী অ্যাকুউরিয়ামে ছেড়ে দিয়ে পালন করছেন।

শিক্ষিত এই যুবক আরো জানায়, এ মাছ চাশে খুব বেশি খরচ হয় না। তারপরও স্থানীয় নিলয় ফাউন্ডেশন নামের একটি সেবামুলক সংস্থা তাকে আর্থিকভাবে বেশ সাহায্য করেছে। এ পর্যন্ত সর্ব সাকুল্যে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। কিন্ত ১৮ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছে। এখনও যে পরিমানের রেনু রয়েছে তা কমপক্ষে ৬০ হাজার টাকা হবে।

আবার রেনু জন্ম দেয়া মাছগুলোও থেকে যাচ্ছে। সে জানায় পড়াশুনার পাশাপাশি এটা করতে তার খুব বেশি কষ্ট হয় না। শুধু শিং জাতীয় মাছের জন্য বাজারে যে খাবার পাওয়া যায় তা অল্প পরিমানে দিলেই হয়। এ মাছগুলোর জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ টাকার খাবার কিনতে হয়েছে। আর প্রতিদিন নজর রাখতে হয় হাউজের পানি বিশুদ্ধ আছে কিনা।

পানির রঙ পরিবর্তন হয়ে একটু ঘোলা হলেই পানি পাল্টিয়ে বিশুদ্ধ পানি দিতে হয়। পানির পরিমান বেশি নয় তাই বেশি সময় লাগে না। এ কাজগুলো সাধারনত কলেজ থেকে বাড়ি এসে বিকালে অথবা কলেজে যাওয়ার আগে সকালে করে থাকে সে। সে এখন প্রতি পিচ গাপ্পি, মলি, প্লাটি মাছের রেনু পোনা ৬০ টাকা, গোল্ড ফিস ও অরেন্ডা গোল্ড ৮০ টাকা, কমেন্ট ৫০ টাকা কই কাপ ৫০ টাকা, রেড টিকা ও মিল্কী কই ৬০ টাকা দরে বিক্রি করছে।

এ থেকে যে টাকা আসছে তা দিয়ে তাদের ৩ ভাইবোনের লেখাপড়ার খরচে কাজে আসছে। সে আরও জানায়, আগে এ অঞ্চলের মানুষ বাইরে থেকে রঙিন মাছ কিনে অ্যাকিউরিয়ামে পালন করতো। এখন এলাকা থেকেই পাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের খামার করে এ মাছ উৎপাদন করার স্বপ্ন দেখছে সে।