
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ফের একবার ঘোষণা করেছেন যে, তিনি ইউক্রেনের পুরো ভূখণ্ডকে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করতে চান। ২০ জুন সেন্ট পিটার্সবার্গ অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া এক বক্তব্যে পুতিন বলেন, “আমি বহুবার বলেছি, রুশ ও ইউক্রেনীয়রা এক জাতি। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ইউক্রেন পুরোপুরি আমাদের। যেখানে রুশ সেনারা পা রাখে, সেটি আমাদের অংশ।”
এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রিই সিবিহা বলেন, “রুশ সেনারা যেখানে যায়, সেখানেই নিয়ে আসে মৃত্যু, ধ্বংস আর বিভীষিকা।” প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও সতর্ক করে জানান, পুতিনের লক্ষ্য শুধুমাত্র ইউক্রেনেই সীমাবদ্ধ নয়; তার নজর বেলারুশ, বাল্টিক রাষ্ট্র, মলদোভা, ককেশাস এবং কাজাখস্তানের দিকেও।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসেই ইউরোপ ও কানাডা মিলে ইউক্রেনকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে, যা গত বছরের প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের মোট সহায়তার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এই সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক সহায়তা স্থগিত থাকার ঘাটতি পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সামরিক সহায়তা দেওয়া হয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প জানান, কিছু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনায় আছে, তবে সেগুলো অত্যন্ত সীমিত এবং বর্তমানে ইসরায়েলকেও সরবরাহ করা হচ্ছে।
শনিবার, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ স্পষ্ট করে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ না করলে কোনো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নেই। রাশিয়া বারবার এই শর্ত পুনরায় জানিয়ে দিয়েছে।
জার্মান সেনাবাহিনীর কৌশলগত প্রতিবেদনে পুতিনের সম্প্রসারণবাদী মানসিকতাকে ইউরোপের জন্য একটি অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের সাম্প্রতিক বক্তব্য কেবল ইউক্রেন নয়, আশপাশের দেশগুলোতেও অস্থিরতা ছড়াতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা
Leave a Reply