1. news@sadhinbanglanews24.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:০৭ অপরাহ্ন

নবীনগরে চাচার কব্জি বিচ্ছিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার নেই, আতঙ্কে পরিবার, আদালতের দ্বারস্থ বাদী

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫
  • ২৩৫ বার

মাসুম মির্জা ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চড়িলাম গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আপন ভাতিজার হাতে চাচার কব্জি বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো নৃশংস ঘটনার তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও অভিযুক্ত আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এতে ভুক্তভোগী পরিবার যেমন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, তেমনি মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় তারা আইনের প্রতি আস্থাও হারাতে বসেছে। ঘটনার শিকার রফিকুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

গত (২৬ জুন) এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আহত রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে (২৭ জুন) নবীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান অভিযুক্ত মোঃ বায়জিদ ইসলাম এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকলেও এখনো পর্যন্ত তারা অধরা।

বাদী মোঃ আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আসামিরা গ্রেপ্তার না হয়ে বরং মামলা করায় উল্টো তাদের পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমার বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিতভাবে হামলা করা হয়েছে। এখন আমরা মামলা করেছি বলে আসামিরা আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।

পুলিশ গড়িমসি করায় বাধ্য হয়ে গত ১৩ই জুলাই-২০২৫ইং তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নির্বাহী মাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি ফৌজদারি কার্যবিধি নং ১০৭/১১৪/১১৭(গ) এর ধারায় মামলা করেছি যার মামলা নাম্বার p১২১৩। এখন প্রশাসনের কাছে একটাই দাবি—আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক।” হামলার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত রফিকুল ইসলামের ভাগ্নে গোলাম রব্বানী জানান, তার মামা বাড়িতে ঢুকতেই এক নারী তার চোখে মরিচের গুঁড়া ছুড়ে মারে এবং মামাতো ভাই দা দিয়ে তার হাতে কোপ দেয়। তিনি বলেন, “আমি দেখেছি তার হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, তিনি মাটিতে ছটফট করছিলেন, রক্ত ঝরছিল প্রচণ্ড গতিতে।” আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ইকবাল হোসেন বলেন, “রফিকুল ভাইয়ের আমার বাড়িতে দাওয়াত ছিল।

জমি থেকে ফিরেই তিনি বাড়িতে ঢুকছিলেন, তখনই হামলা হয়। আমি পাশের দোকান থেকে ছুটে এসে দেখি তার হাত নেই। আমি হাত ধরে ধরে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই।” আহতের স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে জানান, তিনি রান্না শেষ করছিলেন যখন স্বামী ক্ষেত থেকে ফিরছিলেন। হঠাৎ একজন তার মাথায় কোপ দেয় এবং ঝালের হাড়ি থেকে মরিচ তুলে তার হাতে ছুড়ে মারে। ঠিক তখনই তার ভাতিজা এক কোপে স্বামীর হাত কেটে ফেলে। তিনি বলেন, এরপর কী হয়েছিল মনে নেই, সবাই মিলে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।

তিনি সরকারের কাছে সঠিক ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান। গুরুতর আহত রফিকুল ইসলাম নিজের বেদনাময় অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে গেছি। কিন্তু এখন আমার হাত নেই, আমি স্বাভাবিক জীবনে আর ফিরতে পারব না। আমি কেবল ন্যায়বিচার চাই।” এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হামলার পরও আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে করে চড়িলাম গ্রামে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর ইসলাম বলেন, “আমরা মামলাটি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য র্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে তৎপরতা অব্যাহত আছে ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকেও অবহিত করা হয়েছে।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চড়িলাম গ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

আর্কাইভ

স্বাধীন বাংলা নিউজ 24.com limited কর্তৃক প্রকাশিত।

Theme Customized By BreakingNews