ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলা নাসিরাবাদ ইউনিয়ন সাহেবনগর মানিকনগর চর লাপাং এবং নরসিংদীর রায়পুরার মির্জারচরে গ্রাম গুলো চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহা উৎসব। নদীর পাড়ের গ্রামবাসী বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গেলে বালু দস্যু কর্তৃক নিরীহ গ্রামবাসীদের উপর গুলিবর্ষণ ও সশস্ত্র হামলা করে। এবং সাংবাদিকদের প্রাণনামের হুমকি দেয়া যাতে কোন নিউজ না করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা দেওয়া হয়েছে শাখাওয়াত হোসেন কে তার প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স সামিউল ট্রেডার্স এক বছরের জন্য। বাংলা নববর্ষের পহেলা বৈশাখ থেকে চৈত্র মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত। এলাকাবাসী অভিযোগ তাদের নির্ধারিত সীমানা বাইরে এসে অসংখ্য ড্রেজার দিয়ে দিনে এবং রাতে অবৈধভাবে উত্তোলন করছে। বাঁধা দিতে গেলে গুলিবর্ষণ করে বোমাবর্ষণ ও ককটেল ফাটাই এবং মারধোর করে।
এখন এলাকাবাসী চোখের সামনে নিজেদের বাপদাদা বসতভিটা ও কৃষি জমি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা অসহায় মতো তাকিয়ে থাকি আমরা উপজেলা প্রসাশন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং নরসিংদী জেলার ডিসিকে জানাচ্ছি তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নরসিংদীর ডিসি বলেন ইজারা দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডিসি অফিস থেকে আমরা কোন ইজারা দেয়নি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে একাধিক বালু মহল ইজারা দেওয়া হচ্ছে আর ইজারাদারা সীমানা লঙ্ঘন করে নরসিংদীতে এসে বালু উত্তোলন করে। আমরা বারবার যোগাযোগ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক জানাচ্ছি । ইজারাদার যাতে নরসিংদী সীমানায় বালু উত্তোলন করতে না পারে প্রয়োজন ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। নরসিংদীর জেলা থেকে খুব শীগ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার মো: মিজানুর রহমান, আমাদের চোখের সামনের আমাদের কৃষি জমি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ওয়ার্ড মেম্বার রহম আলী, ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শাহ আলম, জানান আমাদের বসতভিটা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার কবীর হোসেন, জানান আমাদের নদীর তীরে মানুষের অভিযোগ কেউ শুনে না। তারা সবাই সরকার কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য ।
এলাকাবাসী জানায়, মেঘনা নদী থেকে চম্বুক ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে একটি বালু দস্যু বাহিনী। মির্জার চর ইউনিয়নের শান্তিপুর, কান্দাপাড়া, তাতুয়া পাড়া, লক্ষীপুর, বালুর চর, পূর্ব পাড়া এলাকার মেঘনা নদীর তীরবর্তী শত শত বাড়িঘরের হাজারো নারী-পুরুষ শিশু নদীভাঙ্গনে এলাকা থেকে ভিটা মাটি ও জমিজমা হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছে।
বর্তমানে যারা নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাস করছেন তারা এখন বালু উত্তোলনকারী দস্যুদের অত্যাচারে অতিষ্ট। কয়েক বছর যাবত বালু দস্যুরা নদীতে চম্বুর ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় গ্রামবাসীরা এখন ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে।
মির্জারচর এবং নাসিরাবাদ ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের লোকজন সম্মিলিতভাবে তাদের ঘরবাড়ি, মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, স্কুলগৃহ তথা পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষার্থে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আলোচনা সভা এবং মানববন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করে। প্রথম পর্যায়ে গ্রামবাসীরা শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা শেষ করে পাশ্ববর্তী মেঘনা নদীর তীরে মানববন্ধন কর্মসূচী শুরু করে।
এসময় বালু উত্তোলনকারীরা দস্যুরা মানবন্ধন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণকারীদের উপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গুলি বর্ষণ ও হামলা চালিয়ে কর্মসূচী বানচাল করে দেয়। অতর্কিত গুলিবর্ষণে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা এদিক সেদিক দৌড়ে প্রাণ রক্ষা পেলেও অনেকে গুরুতর আহত হয়।
এসময় এলাকাবাসীর অনুরোধে মানববন্ধনের রিপোর্ট করতে যাওয়া দুইজন সাংবাদিকের উপরও চড়াও হয় বালু দস্যুরা। এসময় সাংবাদিকদ্বয় নানা কৌশল অবলম্বন করে তাদের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে সেখান থেকে অক্ষত অবস্থায় চলে আসেন।এলাকাবাসী এ ধরণে অবৈধ বালু মহাল সাথে জড়িত সন্ত্রাসী বালু দস্যুদের কঠোর শাস্তির দাবি করে নরসিংদী এবং ব্রাহ্মনবাড়িয়ার জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন জানিয়েছেন।
Leave a Reply