
মাসুম মির্জা ব্রাক্ষণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
অনেকটা ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রতি বছরই কৃষক পর্যায় থেকে সরকারিভাবে ধান কেনার খবর ছড়িয়ে দিতে চেষ্টার কমতি থাকে না খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের। তবে খবর যতটা রটানো হয়, তার ঠিক কতোটা সঠিক কার্যক্রম ঘটানো হয় তা নিয়ে আছে অধিক সংশয়।
যার কারণ কৃষক ও সাধারণ শ্রেণিপেশার মানুষের পক্ষ থেকে উঠে এসেছে বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগ। অন্য বছর মৌখিক অভিযোগ শোনা গেলেও চলতি বছরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহে খাদ্য বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা ও কিছু মিল মালিকদের মধ্যকার টাকা লেনদেনসহ খাদ্য গুদামে ধান ও চাল সংগ্রহের সময় আদ্রতার নির্ধারিত মাত্রা না মানা ও কৃষিকার্ড বিক্রির অভিযোগ লিখিতভাবে জমা পড়েছে সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়ে।
অভিযোগে রয়েছে ‘সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খাদ্যনিয়ন্ত্রক অফিসের আওতাধীন জেলা সদর এলএসডিসহ অধিকাংশ উপজেলার খাদ্য গুদামে ওসি এলএসডি কর্মকর্তাদের অনেকেই স্থানীয় মিল মালিকদের কাছ থেকে গোপন আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে বেশি আদ্রতার চাল সংগ্রহ করছেন।
এক্ষেত্রে ওসি এলএসডিরা মিল মালিকের কাছ থেকে প্রতি টন ধান ছাঁটাইয়ে সর্বনিম্ন ১২শ’ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। ছাঁটাই করা বেশি আদ্রতার চাল সরবরাহ করার সুবিধা পাওয়ার বিনিময়ে মিলার রা ওসি এলএসডিদের টনপ্রতি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগে উঠে এসেছে,‘খাদ্য গুদামগুলোতে ওসি এলএসডিসহ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় দালাল সিন্ডিকেটের সদস্যরা কৃষকদের কাছ থেকে কৃষি কার্ড কিনে অগ্রিম চেকে স্বাক্ষর করিয়ে অনৈতিক ফায়দা লুটছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা সরকারের কাছে তাদের কষ্টের ফসল বিক্রি করতে পারছে না। মিলছে না ন্যায্যমূল্য। এর বাইরেও কৃষকরা ধান বিক্রি করতে এলে নানা হয়রানি তো আছেই।
এমন অভিযোগের সূত্র ধরেই অনুসন্ধানে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি আশুগঞ্জ, সদর, বিজয়নগর, সরাইল,নাছিরনগর। উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বোরো ধান উৎপাদন ও ধান- চাল সংগ্রহ বেশি হওয়ায় এসকল এলাকায় প্রমাণ মেলে গোপনে মিল মালিক ও খাদ্য গুদামের কতিপয় কর্মকর্তাদের মধ্যকার প্রচলিত আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি।
এসব উপজেলার মিল মালিক ও খাদ্য গোদামের তদারকি কর্মকর্তাদের মধ্যকার গোপন আঁতাত ও লেনদেন সম্পর্কে জানতে পরিচয় গোপন রেখে কথা বললে অটো রাইসমিল মালিক সমিতির নেতৃত্বদানকারী একজন প্রভাবশালী মিল মালিকও জানান ধান ছাঁটাইয়ের পর সরবরাহ করা চালের ক্ষেত্রে আদ্রতা সরকার নির্ধারিত ১৪ শতাংশ অতিক্রম করে ১৬ শতাংশ হয়ে গেলেও এ চালও গুদাম কর্মকর্তাকে টনপ্রতি ১৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকা করে দিয়ে সরকারের কাছে বিক্রি করা সম্ভব।
প্রয়োজনে ১৬ শতাংশ আদ্রতার চাল নিতে গুদাম কর্মকর্তা বেশি টাকা চাইলে মিল মালিক সমিতির ওই নেতা নিজে ওসি এলএসডিকে বলে দেয়ার কথাও উল্লেখ করেন।তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে সেখানে গুদামে সরকারি বস্তায় করে ধান ঢোকানোর সময় আদ্রতা পরীক্ষা করতে চাইলে অফিস কক্ষ থেকে মেশিন নিয়ে আসেন একজন। এ মেশিন ধান-চাল সংগ্রহের সময় গুদামের দরজায় থাকার কথা।
গুদামে ঢোকানোর প্রস্তুতি নেয়ার সময় সরকারি বস্তায় থাকা ধানগুলো পরীক্ষা করে দেখা যায়, ১ টি বস্তা বাদে অধিকাংশ বস্তা ধানের আদ্রতা ১৫ শতাংশের বেশি, যা সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ থাকার কথা। সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, সঠিক আদ্রতা না থাকা পর্যন্ত সরকারি বস্তা সরবরাহ করতেই পারেন না গুদাম তদারকি কর্মকর্তা। কিছু চালের বস্তায়ও আদ্রতার মাত্রা ১৪ শতাংশের বেশি দেখা যায়।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাদ্য নিয়ন্ত্রক কানিজ জাহান বিন্দু সঙ্গে প্রথমে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেন বলে আপনি যা পারেন লিখেন।
পরে সরাসরি তার কার্যালয়ে গিয়ে কথা বললে তিনি জানান, আমরা সরকারি নিয়মের মধ্যেই ধান চাউল সংগ্রহ করছি। পরে তিনি অফিসের দুজন কর্মকর্তাকে বলেন আমাদের সাথে কথা বলতে।
উলেখ্য, এবছর সরকারিভাবে কৃষক পর্যায়ে আদ্রতা মানার শর্তে ধান ও চাল সংগ্রহ শুরু হয় গত ২৪ এপ্রিল।যা শেষ হবে আগামী ৩১ আগস্ট।
Leave a Reply