
অনলাইন নিউজ:
নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রণীত রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে। চলতি সপ্তাহেই রোডম্যাপটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। রোডম্যাপ অনুযায়ী ডিসেম্বরে ঘোষণা করা হবে তফসিল। এর আগে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ করবে ইসি, যা সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে দেড় মাসব্যাপী চলবে।
জানা গেছে, ফেব্রুয়ারিতে বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা-২ রোডম্যাপ তৈরি করেছে। প্রণীত রোডম্যাপে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য সময় ধরা হয়েছে। তফসিল থেকে ভোটগ্রহণের সময় রাখা হয়েছে দুই মাস, অর্থাৎ ৬০ দিন। প্রবাসীদের ভোটাধিকারের কারণে সর্বোচ্চ সময় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, “নির্বাচন কমিশন আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। নির্বাচন নিয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে এবং তা অনুমোদনের জন্য কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে।”
ইসি সূত্রে জানা গেছে, রোডম্যাপে ইসির জনসংযোগ শাখা থেকে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপের জন্য সময় রাখা হয়েছে। ইসির এক কর্মকর্তা জানান, এই সংলাপ সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে পরবর্তী দেড় মাসের মধ্যে শেষ হবে। গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই সময়সীমা রাখা হয়েছিল দুই মাস।
তফসিল ঘোষণার ১৫ দিন আগে নির্বাচনি সরঞ্জামাদির মজুত, পরীক্ষা ও চাহিদা নিরূপণ করে অবহিত করার জন্য জেলা নির্বাচন অফিসারদের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
রোডম্যাপে প্রতীক বরাদ্দের পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকাসহ ব্যালট মুদ্রণের জন্য ১৫ দিন সময় রাখা হয়েছে। জানুয়ারির শেষদিকে এটা করা হবে। তফসিল ঘোষণার এক মাস আগে অক্টোবরের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ম্যানুয়েল, নির্দেশিকা, পোস্টার, পরিচয়পত্র ইত্যাদি মুদ্রণ করার কথাও উল্লেখ আছে প্রণীত রোডম্যাপে।
জানা গেছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন চূড়ান্ত, চলতি আগস্টের মধ্যে সংসদীয় আসনের সীমানা বিন্যাস সম্পন্ন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ সংশোধনী প্রস্তাব ও সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধিমালা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে। ইতোমধ্যে ২২টি দলের মাঠ পর্যায়ের তথ্য যাচাইয়ের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।
রোডম্যাপে তফসিল ঘোষণার ন্যূনতম ১০ দিন আগে অর্থাৎ ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের আসনভিত্তিক চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ এবং সারা দেশে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের কাজ ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সম্পন্ন করার প্রস্তাবনা রয়েছে।
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপজেলা ও থানাভিত্তিক অন্যান্য বিভাগীয় কর্মকর্তার প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (টিওটি) সম্পন্ন করতে হবে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রবাসীদের ব্যালট পাঠানো হবে। সেখানে শুধু নিবন্ধিত দলের প্রতীক থাকবে, কিন্তু প্রার্থীর নাম থাকবে না। প্রতীক চূড়ান্ত হওয়ার পর শুধু নিবন্ধিত প্রবাসীরাই পছন্দের প্রতীকে ভোট দিয়ে ডাকযোগে ব্যালটটি পাঠিয়ে দেবেন।
রোডম্যাপের মধ্যে আরো রয়েছে, তফসিল ঘোষণার সাত দিন আগে নভেম্বরের শেষদিকে হেলিকপ্টার টেক অফ ও ল্যান্ডিংয়ের স্টেশন নির্দিষ্ট করা, অনলাইন মনোনয়নপত্র ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করা এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত অ্যাপ, সফটওয়্যার, প্রোগ্রাম প্রস্তুত ও ব্যবহার উপযোগী করা। একইসঙ্গে তফসিল ঘোষণার অনলাইনে মনোনয়নপত্র সাবমিশন করার জন্য এ-সংক্রান্ত ইসির ওয়েবসাইট উন্মুক্ত করা।
Leave a Reply