
দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে দারুণ এক চমক দেখাল বলিভিয়া। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪১৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত লা পাজ শহরের এস্তাদিও হার্নান্দো সিলেস স্টেডিয়ামে শক্তিশালী ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে তারা নিশ্চিত করেছে প্লে-অফের টিকিট।
লা পাজে খেলা মানেই প্রতিপক্ষ দলের জন্য বাড়তি পরীক্ষা। পাহাড়ি উচ্চতায় অক্সিজেনের স্বল্পতার কারণে স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পেতে অনেক দলই হিমশিম খায়। ব্রাজিলিয়ান তারকারাও এর ব্যতিক্রম নয়। ম্যাচের শুরু থেকেই নেইমারবিহীন ব্রাজিল দল ছন্দহীন ফুটবল খেলেছে। পাসিং ও গতি ধরে রাখতে পারেনি তারা, ফলে গোলের সুযোগ এলেও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+ মিনিটে) পেনাল্টি থেকে বলিভিয়াকে এগিয়ে দেন তরুণ ফরোয়ার্ড মিগুয়েল তেরসেরোস। এই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল আক্রমণ বাড়ালেও বলিভিয়ার রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভ এবং রক্ষণের দৃঢ়তা তাদের ঐতিহাসিক জয় এনে দেয়।
এ জয় শুধু প্লে-অফের পথ খুলে দেয়নি, বরং ২০১৯ সালের পর প্রথমবার ঘরের মাঠে ব্রাজিলকে হারানোর গৌরবও এনে দিয়েছে বলিভিয়ার ফুটবলে। সমর্থকরা লা পাজে উৎসব শুরু করে দিয়েছেন—কারণ বিশ্বকাপে ফেরার স্বপ্ন আবার জেগে উঠেছে।
১৮ ম্যাচ শেষে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে আর্জেন্টিনা। ব্রাজিল ২৮ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করেছে পঞ্চম স্থানে, আর ২০ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে থেকে প্লে-অফের টিকিট পাকা করেছে বলিভিয়া।
বলিভিয়া সর্বশেষ বিশ্বকাপে খেলেছিল ১৯৯৪ সালে। এবার প্লে-অফে জিততে পারলেই তারা ২০২৬ বিশ্বকাপে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত) ফিরবে ৩২ বছর পর। এই ঐতিহাসিক সম্ভাবনাকে ঘিরে দেশজুড়ে উচ্ছ্বাস এখন তুঙ্গে।