
অনলাইন ডেস্ক:যশোরে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ এবং এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় আদালতের নির্দেশে অবশেষে মামলা রেকর্ড করেছে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ। গত ৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে উপজেলার রাধানগর গ্রামের এই ঘটনাটি থানা পুলিশ মামলা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী।
মামলায় আসামি করা হয়েছে তিনজনকে। তারা হলো, রাধানগর গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে হাফিজুর রহমান, নবিরুল ইসলামের ছেলে জাকের আলী ও মৃত নওশের আলীর ছেলে ইমরান হোসেন। আদালতের নির্দেশ থাকলেও থানা মামলা রেকর্ডে বিলম্ব করে বলে বাদী অভিযোগ করেন। যা নিয়ে গ্রামের কাগজে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
বাদী মামলায় বলেছেন, তার স্বামী ঢাকায় চাকরি করেন। দু’টি ছেলে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে তিনি বসবাস করেন। বেশ কিছুদিন ধরে আসামিদের লোলুপদৃষ্টি পড়ে বাদীর প্রতি। ফলে তারা বাদীকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। রাজি না হওয়ায় জোরপূর্বক ধর্ষণ ও খুন করার হুমকি দেয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে আসামিরা ঘরে প্রবেশ করে।
দু’টি ছেলে ও বাদীর গলায় গাছি-দা ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে পাশের ঘরে নিয়ে বাদীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে আসামিরা। পাশাপাশি ধর্ষণের ঘটনাবলি তারা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। এরপরে বাদী ও তার ছেলেদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরদিন বাদীর কাছে আসামিরা এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
নইলে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। ফলে ঘটনাটি বাদী তার স্বামীকে জানিয়ে বাঘারপাড়া থানায় মামলা করতে যান। কিন্তু থানা মামলা নেয়নি। বাধ্য হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর তিনি এই ঘটনায় যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। বিচারকের নির্দেশে গতকাল ১ অক্টোবর মামলাটি রেকর্ড করেছে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ।
উল্লেখ্য, আদালতের নির্দেশ দিলেও বাঘারপাড়া থানা পুলিশ মামলা গ্রহণে দেরি করে। এ নিয়ে গ্রামের কাগজে সংবাদ প্রকাশ হয়। যদিও বাঘারপাড়া থানা পুলিশ বলছে, আসামি আটকের জন্য তারা মামলা রেকর্ড করতে বিলম্ব করেছিলেন। এমনকি চেষ্টাও করেছেন তারা। দ্রুতই জড়িতদের আটকের আশ্বাস দেন অফিসার ইনচার্জ ফকির তাইজুর রহমান।
Leave a Reply