যশোর প্রতিনিধি :
যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা কলেজ মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোগা ইউনিয়নের “রাজ ব্রিকস” নামক ভাটাটি আমেরিকা প্রবাসী হযরত আলীর পরিচালনায় রয়েছে। ভাটার মধ্যে গোগা গ্রামের জাহিদ হোসেনের (২৮) ১.৫ বিঘা জমি রয়েছে। জমির লিজের টাকা বকেয়া থাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ভাটার দায়িত্বে থাকা সাজু বদ্দির (৪২) সঙ্গে জাহিদের বিরোধ হয়।এসময় সাজু তাকে মারধর করে ভাটা থেকে বের করে দেয়।
পরবর্তীতে বিষয়টির মীমাংসার জন্য সন্ধ্যায় উভয়পক্ষ গোগা কলেজ মোড়ের বিএনপি নিয়ন্ত্রিত ক্লাবে বসার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সেখানে জাহিদ হোসেন ও তার সহযোগীরা পৌঁছালে সাজু বদ্দি, রাজু বদ্দি, ডিটু, রাসেলসহ অজ্ঞাত ১০-১৫ জন অতর্কিত হামলা চালায় এবং ৬-৭টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় কলেজ মোড়ে উপস্থিত মিনারুল (২২) ককটেলের স্প্রিন্টারে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাকে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।
অপরদিকে স্থানীয়ভাবে আরেকটি পক্ষ জানিয়েছে, ভাটার মূল মালিক ছিলেন ওমর ফারুক। তার কাছ থেকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তবিবুর রহমান তবি ও নাসির ইজারা নিয়েছিলেন। পরে তারা পলাতক হলে আমেরকিা প্রবাসী বিএনপি নেতা হযরত আলীর কাছে ভাটা হস্তান্তর হয়। এ জমি লিজ সংক্রান্ত বিরোধ নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলে আসছে।
এদিকে গোগা ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি প্রার্থী ও ভাটা মালিক হযরত আলীর ভাই সুলতানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রিজাউলের ছেলে বনি আলমও বৃহস্পতিবার হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি জানান, স্ত্রী ও সাত মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে তাদের চিকিৎসার জন্য মোটরসাইকেলে করে বাজারে যাওয়ার পথে গোগা কলেজ মোড়ে বিএনপির প্রতিপক্ষ ১০-১৫ জন তাকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে।
এসময় তার স্ত্রীকে মারধর করা হয় এবং গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়া হয়। সন্তান ও মোটরসাইকেলও নিখোঁজ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
স্থানীয় ভ্যানচালক ওমর আলীকেও একই সময় মারধর করা হয়। তিনি দাবি করেন, বনি আলমকে বাঁচাতে এগিয়ে গেছেন ভেবে বিএনপি নেতা সরোয়ারের নেতৃত্বাধীন সিরাজুল বাহিনীর সদস্যরা তাকে লাঠি দিয়ে পেটায়। হামলায় জড়িতদের মধ্যে সিরাজুল, মাসুদ, জাহিদ, দেলোয়ার, আমিনুর, রিয়াজুল, আব্দুল্লাহ, নূর হোসেনসহ অজ্ঞাত ১০-১৫ জনের নাম উঠে এসেছে।
সংবাদ পেয়ে শার্শা থানার ওসি আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানান, “ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।”