
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বোমা হামলা বন্ধের আহ্বান জানালেও ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় একাধিক বিমান হামলা ও কামানের গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। এতে নিহত ও আহত হয়েছে বহু মানুষ, ধ্বংস হয়েছে বসতবাড়ি ও জনপদ।
শনিবার (৪ অক্টোবর) গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা নিশ্চিত করেছে, ভোররাত থেকে চলা এসব হামলায় সাতজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, এটি একটি অত্যন্ত সহিংস রাত ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বোমা হামলা বন্ধের আহ্বান সত্ত্বেও ইসরায়েলি সেনারা গাজা সিটি ও উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ডজন বিমান হামলা ও কামানের গোলাবর্ষণ চালিয়েছে।
বাসাল আরও জানান, রাতভর চলা হামলায় অন্তত ২০টি আবাসিক ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
গাজা সিটির ব্যাপটিস্ট হাসপাতাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শহরের তুফাহ পাড়ার একটি বাড়িতে বিমান হামলায় চারজন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজন একই পরিবারের সদস্য। আহতদের অবস্থা গুরুতর।
খান ইউনিসে গাজার নাসের হাসপাতাল জানায়, বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য নির্মিত একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় দুই শিশু নিহত হয়েছে। অন্তত আটজন আহত অবস্থায় ভর্তি রয়েছে হাসপাতালে।
হামাস একটি আংশিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি জানালেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল, বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আহ্বান এই মুহূর্তে কার্যত উপেক্ষিত রয়ে গেছে।
ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এই হামলাগুলো সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করার কৌশল। রাতভর বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি চলতে থাকায় বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছেন।
টানা হামলার ফলে গাজায় খাদ্য, পানি ও ওষুধের সংকট আরও প্রকট হচ্ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সতর্ক করে বলছে, যদি অবিলম্বে হামলা বন্ধ না হয়, তবে গাজার সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, হামলা থামাতে না পারলে গাজা একটি বিশাল মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত হবে।
Leave a Reply