1. news@sadhinbanglanews24.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৪১ অপরাহ্ন

মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩১৪ বার
প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাবেক কমিটির বিরুদ্ধে। নতুন কমিটি ও এলাকাবাসী টাকা ফেরত চাইলে হুমকির সম্মুখীন হয় সকলে। জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদানের পর কিছু টাকা স্থানীয় চেয়ারম্যান দাউদ হোসেনের নিকট রাখা হয় বলে জানা গেছে। কিন্তু কোন সমাধান হয় নি এমনকি সমাধানের পথও অজানা।

যশোর সদর উপজেলা চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের গোবিলা গ্রামের উত্তর পাড়া জামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। সাবেক মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহের সভাপতি জিন্নাত আলী ও সাধারণ সম্পাদক হাশেম আলীকে নিয়ে তেমন অভিযোগ না থাকলেও কোষাধ্যক্ষ মোমিনুর রহমানের প্রতি নানা ধরনের অভিযোগ। এলাকার লোকজন একাধিক বার মোমিনের বাড়িতে টাকার কথা বলতে গেলে সকলকে অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাবেক কমিটির মিয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালে আগস্ট মাসে।

মহল্লা কেন্দ্রিক নতুন কমিটি গঠনের চেষ্টাকেউ নষ্ট করতে মরিয়া উঠেছে মোমিন। যার ফলে মহল্লায় মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহের নতুন কমিটি গঠন ও সাবেক কমিটির কোষাধ্যক্ষের নিকট হতে হিসাব নিতে এলাকাবাসী আগ্রহী হয়ে উঠে। তখনই এলাকায় দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

যা সমাধানের চেষ্টা করে ব্যার্থ হলে ইউপি চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন নিকট লিখত অভিযোগ দায়ের করে এলাকাবাসী। চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন অভিযোগের ভিত্তিতে ১৩ আগস্ট ও ২০ আগস্ট উভয় পক্ষকে পরিষদে মিমাংসার জন্য ডাকলে পরিষদে বিবাদীগণ হাজির হয়নি। যার ফলে উচ্চ আদালতে অভিযোগের পরামর্শ দেন ইউপি চেয়ারম্যান।

এরই মাঝে নতুন কমিটির হওয়ার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না দেখে মহল্লাবাসী সকলের সম্মতিতে নতুন কমিটির গঠন করে। নতুন কমিটিতে সাবেক সভাপতি জিন্নাত আলী ও সাধারণ সম্পাদক হাশেম আলীকে স্ব স্ব পদের থাকার প্রস্তাব করলে তারা নিজেরা থাকতে রাজি হয়নি।

যার ফলে ২৫ আগস্ট ২০২৫ সালে আতর আলীকে সভাপতি, ইউনুচ আলীকে সাধারণ সম্পাদক ও রাজিব হোসেনকে কোষাধ্যক্ষ করে নতুন কমিটি গঠন করে এলাকাবাসী। নতুন কমিটি ও এলাকাবাসী মসজিদ মাদ্রাসা ও ঈদগাহের টাকার হিসাব পেতে কোন উপায়ান্তর না পেয়ে ২৭ অক্টোবর ২০২৫ যশোর জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি করেন।

এরই মাঝে মসজিদে গোলযোগপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। যা সাজিয়ালি পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করে। পরবর্তীতে দুই পক্ষেকে পুলিশ ফাঁড়িতে ডাকলে সাবেক কমিটির লোকজন উপস্থিত হয়নি বলে জানায় পুলিশ। এ ব্যাপারে সরেজমিনে দেখা গেছে গোবিলা গ্রামে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বর্তমান মসজিদ কমিটির সদস্যরা বলেন, মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহ ধর্মীয় অনুভুতির দুর্বলতার জায়গা। সুতারাং এখানে আমরা দলমত নির্বীশেষে সকলেই নিজ নিজ দায়ীত্বে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা পরিবেশ সৃষ্টি করতে দেব না। প্রয়োজনে আমরা সাবেক কমিটির নিকট অনুরোধ করবো যেন তারা এ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের হিসাব সুষ্ঠভাবে বুঝিয়ে দেয়।

আমাদের হিসাব মতে, সাবেক কোষাধ্যক্ষের নিকট ঈদগাহ বাবদ ৪৯ হাজার ৫ শত টাকা, মাদ্রসার ১৭ হাজার ৫ শত টাকা, মাছ বিক্রি ৩২ হাজার টাকা, জমি রেজিষ্ট্রির ১০ হাজার টাকা, মসজিদের ফান্ড ২২ হাজার টাকা এবং সচিবলয় থেকে বরাদ্ধকৃত ৬০ হাজার টাকা সহ মোট ১ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। এছাড়াও কম বেশি অনেক টাকা আছে যা আমাদের জানা নেই। এমনকি মসজিদের হিসাবের খাতা সেটাও আমরা পায় নি।

সাবেক কমিটির সভাপতি জিন্নাত আলী বলেন, আমি ব্যক্তিগত ভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে কোন মনো রেশারেশি চায় না। মহল্লাবাসী সকলেই মিলেমিশে একত্রে থেকে ধর্মীয় অনুসাশন পালনে কোন প্রকার বাঁধা বিগ্ন হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। নতুন কমিটিতে আমার নাম প্রস্তাব করা হলেও সময় দিতে না পারার কারনে অসম্মতি জানিয়েছি। পাশাপাশি সাবেক কোষাধ্যক্ষকে হিসাব বুঝিয়ে দিতে বলেছি।
সাজিয়ালি পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই নিয়ামুল বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য তাদের ডাকলে তারা হাজির হয়নি।

মসজিদের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোমিনুর রহমান বলেন, আমি কিছু টাকা চেয়ারম্যানের নিকট জমা দিয়েছি। আর যোগ্য কোন কমিটি যদি আমার নিকট টাকা পাবে এমন দাবি করে তবে সমুদয় টাকা দিয়ে দেব। তবে আমার পচ্ছন্দের মানুষ হতে হবে।

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন বলেন, কয়েকদিন পূর্ব মোমিন টি আর প্রকল্পের ১ লক্ষ ১৩ হাজার টাকার মধ্যে ৫৬ হাজার ৫ শত টাকা রেখে গেছে। বাকি টাকার চেক ভাঙ্গিয়ে প্রকল্পের কাজ পরিষদের নিয়ন্ত্রণে করা হবে। তাছাড়া মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহ কেন্দ্রীক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলেও বিবাদীগণ হাজির না হওয়ায় মিমাংসা করা সম্ভব হয়নি।

মসজিদের সাধারণ মুসল্লীগণ বলেন, মোমিন ইতি পূর্বে অসংখ্য মানুষকে মারধর করেছে। এমনকি এখনও হুমকি দিচ্ছে দল ক্ষমতায় আসলে টাকা ফেরত দেব বলে। আমরা আতঙ্কে আছি কখন আবার কার না মেরে বসে।

কারন ছোট-বড়, বাবা বয়সী অসংখ্য মানুষকে ইতিপূর্বে মেরেছে। আমরা চাই কোন অশান্তি না করে সুন্দর সু-শৃঙ্খল পরিবেশ। মোমিন টাকা দিয়ে দিলে কোন সমস্যা থাকে না। গ্রামবাসী মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহের টাকার মিমাংসা ব্যাপারে প্রসাশনের হস্তক্ষেপ কামনা করে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

আর্কাইভ

স্বাধীন বাংলা নিউজ 24.com limited কর্তৃক প্রকাশিত।

Theme Customized By BreakingNews