1. news@sadhinbanglanews24.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন

ভয়াল সিডরের ১৮ বছর ১৫ নভেম্বর 

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬৬ বার

আ: মালেক রেজা, শরণখোলা :
১৫ নভেম্বর ভয়াল সিডরের ১৮ বছর । ২০০৭ সালের এই দিনে উপকূলবাসী ভয়ংকর এক দুর্বিষহ দিনের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে। সেদিন সিডরের আঘাতে শুধু বাগেরহাটের শরণখোলায় মৃত্যু হয়েছিল প্রায় এক হাজার মানুষের কেউ হারিয়েছে ভাই কেউ হারিয়েছে বোন কেউ হারিয়েছে সন্তান ও বাবা- মা। টেকসই বেরিবাঁধ না থাকায় সেদিন সিড়রে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের একটাই দাবি ছিল “মোরা ত্রাণ চাই না , বেরিবাঁধ চাই।” পরে ২০১৬ সালে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সি এইচডব্লিউ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের ৬২ কিলোমিটার বেরিবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ব্যাপক অনিয়ম আর দুর্নীতির মাধ্যমে মাটির পরিবর্তে বালু দিয়ে তৎকালীন সরকারের কতিপয় দুর্নীতিবাজ রাঘব বোয়ালের সহযোগিতায় চীনা কোম্পানির প্রকল্পের ঠিকাদাররা যেনতেন ভাবে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করে ২০২৩ সালের ১৪ই ডিসেম্বর দায় সারাভাবে বেড়িবাঁধের কাজ হস্তান্তর করে। সিডরে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের রাজেশ্বর থেকে বগি পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার জুড়ে এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি স্বপ্নের বেরিবাঁধ নদী শাসন ব্যবস্থা না থাকায় আজ হুমকির মুখে। সিডরে ১৮ বছর পর আজও কান্না থামছে না স্বজন হারা সেই মানুষগুলির। ইতিমধ্যে রায়েন্দা বাজার ফেরি ঘাট থেকে থেকে বগি পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বেরিবাঁধে ২০/২৫ টি পয়েন্টে ব্লকে ধস ও নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। সিডরের ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ সাউথখালী এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন মেম্বার, মোশাররফ খান ,মুক্তিযোদ্ধা মোদাচ্ছের আলী, উত্তর সাউথখালী এলাকার আব্দুল খালেক হাওলাদার, আলতাব খান ও উকিল মিয়া সহ অনেকেই আফসোস করে বলেন বেরিবাঁধ নির্মাণ ঠিকই হলো কিন্তু নদী শাসন ব্যবস্থা না থাকায় আজ বেরিবাঁধ হারিয়ে যাওয়ার পথে। আমরা আবারো নিঃস্ব হয়ে যাবো এই আশঙ্কায় রাতে ঘুমাতে পারিনা।
শরণখোলা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলন ও সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি শহীদুল আলম লিটন বলেন, তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দালালরা ও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নির্মাণাধীন প্রকল্পের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে মাটির পরিবর্তে বালু দিয়ে বেরিবাঁধ নির্মাণ করায় বেরিবাঁধ এর অসংখ্য জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং নদী শাসন ব্যবস্থা না থাকায় আজ বেরিবাঁধটি হুমকির মুখে। শীঘ্রই নদী শাসন ব্যবস্থা না করা হলে কোটি কোটি টাকা ব্যয় নির্মাণাধীন বাঁধটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাগেরহাট জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন , ইতোমধ্যে বেরিবাঁধ এর যে সমস্ত জায়গায় ব্লক ধ্বসে পড়েছে সেগুলি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে নদী শাসন ব্যবস্থা প্রকল্পের টাকাও বরাদ্দ হয়েছে নদী শাসনের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

আর্কাইভ

স্বাধীন বাংলা নিউজ 24.com limited কর্তৃক প্রকাশিত।

Theme Customized By BreakingNews