1. news@sadhinbanglanews24.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

 গানে গানে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে যশোরে মানববন্ধন

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬৬ বার

যশোর প্রতিনিধি : বাউল শিল্পীদের গানে গানে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়েছে যশোরের সাংস্কৃতিক কর্মীরা। শনিবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে প্রেস ক্লাব যশোরের সামনে যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ ব্যানারে এই মানববন্ধন হয়। বক্তারা বাউল আবুল সরকারের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আন্দোলন চালানোর হুশিয়ারি দেন। তারা বিনা শর্তে তার মুক্তির দাবিও জানান।
বক্তারা বলেন, ‘অসাম্প্রদায়িক চেতনার মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। এ দেশে কোনো সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থাকবে না। ধর্মের নামে কোনো হানাহানি চলতে পারে না। বাংলাদেশ হবে অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা। এখানে সব ধর্মের মানুষ তাদের অধিকার নিয়ে বসবাস করবে, তাদের উৎসব উদ্যাপন করবে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে। তাতে কোনো বাধা থাকবে না।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বাউল সরকারের আটকের মধ্যে দিয়ে দেশের সাংস্কৃতিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করার হুমকি। সংস্কৃতিক বিরুদ্ধে সবসময় একটি গোষ্ঠী সংক্রীয় ছিলো। শত শত বছরেও তারা সংক্রীয় ছিলো; বিগত সরকারের সময়ও তারা বাউল শিল্পী সাংস্কৃতিক কর্মীদের উপর হামলা করেছে। সেই গোষ্ঠী যারা সংগীত পছন্দ করে না; তারা সমাজকে অন্ধকারে নিতে চাই তারাই সবসময় সংক্রীয় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের সময়েও বারবার রাজপথে আন্দোলন করতে হয়েছে, আজও প্রতিবাদে দাঁড়াতে হচ্ছে। শাসক পরিবর্তন হচ্ছে, কিন্তু আমরা লক্ষ করছি শাসকগোষ্ঠী সবসময় বারবার তাদের পক্ষেই দাঁড়াচ্ছে।
একটি রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ‘কারা কারা বেহেস্তের টিকিট পেয়েছেন’এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হচ্ছে কি না, তা বিবেচনা করা জরুরি। বক্তারা দ্রুত বাউল আবুল সরকারের মুক্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে যশোর শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান বুলু বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছরে আমাদের যে স্বপ্ন মত প্রকাশ, সেই স্বাধীনতার স্বাদ এখনো পায়নি। সাংস্কৃতিক কর্মীদের প্রাণের সাংস্কৃতিক চর্চা; সেটা করতে যেয়ে বারংবার বাধাগ্রস্ত হয়েছি। আজকেও হামলা, গ্রেফতার ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আগেও রাজনীতিক চর্চা করতে যেয়ে হামলা, মৃত্যু হয়েছে। একটি পটপরিবর্তনের পরেও এখনোও মাজারে হামলা, বাউল শিল্পীদের উপর হামলা হচ্ছে; তাহলে কি পরিবর্তন হলো?
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিপাঙ্কর দাস রতন বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মীদের প্রধান দাবি একটাই, মুক্ত সাংস্কৃতকি চর্চা। বাঙালির যে চিরায়ত সংস্কৃতি এই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সবসময় একটি গোষ্ঠী অবস্থান গ্রহন করেছে। তারা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় কিছু সংস্কৃতির বিরোধী শক্তি। এই সংস্কৃতি বিরোধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার দরকার। সংস্কৃতি হারিয়ে গেলে, বাঙালি হারিয়ে যাবে। বাঙালি হারিয়ে গেলে বাংলাদেশ হারিয়ে যাবে। এই বাংলাদেশকে আফগানিস্তান পাকিস্তান হতে দিবো না। বাউল আবুল সরকারের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আন্দোলন চালানোর হুশিয়ারি দেন তিনি। একই সাথে বিনা শর্তে তার মুক্তির দাবি জানান।’
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক সংগঠক হারুন অর রশিদ, সানোয়ারুল আলম খান দুলু, যোগেশ দত্ত, মোস্তাফিজুর রহমান, দিপংকর বিশ্বাস, এইচ আর তুহিন, হাসিবুর রহমান প্রমুখ। বক্তব্যর মাঝে মাঝে বাউল শিল্পীরা জাত গেল জাত গেল বলে/একি আজব কারখানা/সত্য কাজে কেউ নয় রাজি/সবই দেখি তা না না না’ বাউল গানে গানে প্রতিবাদ জানান।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

আর্কাইভ

স্বাধীন বাংলা নিউজ 24.com limited কর্তৃক প্রকাশিত।

Theme Customized By BreakingNews