
স্টাফ রিপোর্টার (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার খড়মপুরে অবস্থিত হযরত সৈয়দ আহম্মদ (রঃ) এর দরগাহ শরীফ, যা দেশজুড়ে কেল্লা শহীদ মাজার নামে সুপরিচিত, প্রতিদিনই হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর আগমণে মুখর থাকে। দীর্ঘ ইতিহাস ও রহস্যময় কাহিনীতে সমৃদ্ধ এ মাজারটি বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্যতম ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান।
স্থানীয় লোকজন ও প্রবীণদের বর্ণনা অনুযায়ী, বহু শতাব্দী আগে তিতাস নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে খড়মপুরের হিন্দু জেলে চৈতন দাস ও তার সঙ্গীদের জালে হঠাৎ একটি খণ্ডিত শির ওঠে। তারা ভয়ে শিরটি স্পর্শ করতে চাইলে অলৌকিকভাবে সেই মস্তক কথা বলতে শুরু করে।
খণ্ডিত শির তাদের উদ্দেশ্যে বলে— “একজন আস্তিক ও একজন নাস্তিকের কখনো মিল হতে পারে না। তোমরা কলেমা পাঠ করে মুসলমান না হওয়া পর্যন্ত আমাকে স্পর্শ করবে না।” এ ঘটনা দেখে জেলেরা বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে শিরের নির্দেশনা অনুযায়ী খড়মপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ধর্মান্তরিত সেই জেলেদের বংশধরদেরই আজকের কেল্লা শহীদ মাজারের প্রাচীন উত্তরসূরি বলে মনে করা হয়। তৎকালীন আগরতলা রাজ্যের মহারাজা মাজার প্রতিষ্ঠার জন্য ২৬০ একর জমি দান করেছিলেন বলে স্থানীয় ইতিহাসে প্রচলিত রয়েছে। আবার অনেক গবেষকের মতে, হযরত শাহ জালাল (রঃ)-এর সাথে সিলেটে আগত ৩৬০ জন দুঃসাহসী সঙ্গীর মধ্যে হযরত সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ ছিলেন অন্যতম।
তরফ রাজ্যের রাজা আচক নারায়নের সঙ্গে যুদ্ধে তিনি শহীদ হন এবং তাঁর খণ্ডিত মস্তক নদীর স্রোতে ভেসে এসে খড়মপুরে পৌঁছায়। প্রতি বছর মাজার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ওরসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো ভক্ত, মুরিদ ও দর্শনার্থী ভিড় করেন। এছাড়া সারা বছরই প্রাঙ্গণটি ধর্মীয় উৎসব, মানত, দোয়া ও জিয়ারতে ব্যস্ত থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কেল্লা শহীদ মাজার শুধু আধ্যাত্মিক চেতনার কেন্দ্র নয়, এটি আখাউড়া উপজেলার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে আসা বিশ্বাসের প্রতীক।
Leave a Reply