
যশোর প্রতিনিধি : যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুরের সেই স্কুলছাত্রী নাদিরা আক্তারকে হত্যা-ধর্ষণ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছে। হত্যা ও ধর্ষণের সাথে জড়িত প্রেমিক নাজমুল ইসলামসহ জড়িত অন্যদের ফাঁসির দাবিতে রোববার বেলা পৌনে ১২ টার দিকে শ’ শ’ নারী পুরুষ প্রেসক্লাব যশোরের সামনে মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী ও ধর্ষণকারীদের বিচার চাই, ফাঁসি চাই স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে রাজপথ।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী হাফিজুর রহমান, জলি খাতুন, সখিনা বেগম, কাকলী বেগম, জাহানারা খাতুনসহ অনেকেই দাবি করেন-ইছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল নাদিরা আক্তার। স্কুলে যাতায়াতের পথে প্রায় নাদিরাকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিতো রামকৃষ্ণপুর গ্রামের নাছির মোল্যার ছেলে নাজমুল। নাদিরা প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নাজমুল ক্ষতি করার ষড়যন্ত্র শুরু করে। এক পর্যায়ে নাদিরা প্রেমে পড়ে যায় নাজমুলের। প্রায় তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথা হতো। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নাজমুল তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। সুচতুর নাজমুল সেই দৃশ্য গোপনে তার মোবাইল ফোনেও ধারণ করে রাখে। পরে ভিডিও দেখিয়ে নাজমুল নানাভাবে ব্ল্যাকমেইলিং করতে থাকে। নাদিরা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে নাজমুল তাকে চরিত্রহীন বলে অপবাদ দেয়। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে নাদিরা। গত ৮ ডিসেম্বর রাত আটটার দিকে নাদিরা ঘর থেকে বের হয়ে যায়। খোঁজাখুঁজি করে নাদিরাকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয় স্বজনেরা। রাত সাড়ে ১০ টার দিকে স্বজনেরা জানতে পারেন নাদিরার মরদেহ নাজমুলের বসতবাড়ির সামনের একটি আম গাছে ঝুলে আছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বিক্ষুব্ধদের দাবি, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের নাছির মোল্যা ও তার দুই ছেলে নাজমুল হোসেন, ট্যাপা হোসেন এবং নজরুল মোল্লার ছেলে মিরাজুল ইসলাম মিলে নাদিরাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। পরে ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে মৃতদেহ গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। ঘটনার ১ সপ্তাহ হতে চললেও ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করতে পারেনি পুলিশ। অতি সত্তর তাদের গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর স্কুলছাত্রী নাদিরা আক্তারকে হত্যা, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন মা শিল্পী বেগম। এতে নাদিরার প্রেমিকসহ ৪ জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেন, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের নাছির মোল্লা ও তার দুই ছেলে নাজমুল হোসেন, ট্যাপা হোসেন এবং নজরুল মোল্লার ছেলে মিরাজুল ইসলাম। এর আগে ৯ ডিসেম্বর ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরস্থান দাফন করা হয়।নাদিরা রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী মকতুল হোসেনের একমাত্র মেয়ে।
Leave a Reply