
অনলাইন ডেস্ক:
যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেছেন, নির্বাচনী কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। এবারের নির্বাচন হবে একটি স্মরণযোগ্য নির্বাচন। যশোরে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। অর্পিত দায়িত্ব পালনে কোন অনীহা, উদাসীনতা বা গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা প্রশাসন আয়োজিত মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভার সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রোববার বেলা ১১ টায় কালেক্টরেট সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান আরো বলেন, গণভোটের প্রচারণায় সকল দপ্তরকে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দৈনন্দিন সমাবেশ, প্রতিটি মসজিদে ইমাম ও মুসুল্লিদের গণভোট সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নমূলকসহ সব ধরণের কাজ ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সম্পাদন করতে হবে। এই সময়ের পর ভোটকেন্দ্রসমূহে কোন নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা হলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে।
ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরাসহ নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহে নিশ্চিতে কলকারখানাসমূহ ১১, ১২, ১৩ জানুয়ারি বন্ধ রাখা হবে। একই সাথে যশোরে বিদ্যুত বিভাগের সকল সাবস্টেশনে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। নির্বাচনী সময়ের মধ্যে মধুমেলার দিনক্ষণ থাকায় ২৫ জানুয়ারি মধুকবির জন্মদিন বর্ণিল আয়োজনে উদযাপন করা হবে। দিনব্যাপী আয়োজনে থাকবে স্মরণিকা প্রকাশ, কেককাটা, মধুকবির বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে আলোচনা, আলোচনা পর কুইজ প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজন। রোযা ও ঈদের পর হবে বড়পরিসরে মধুমেলা।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগ যশোরের উপপরিচালক ও যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন, শহরে যনজট নিরসনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও কিছু সময় পর আবার তা বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এ সময় জেলা প্রশাসক ভোটের আগ পর্যন্ত প্রতিদিন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা ও নির্দেশনা অমান্যকারীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা ও কারাদন্ডের নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) আবুল বাশার বলেন, ইতোমধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শুরু করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রসহ আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে পুলিশসহ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সভায় সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব বলেন, নির্বাচনী আরপিও সংশোধন করা হয়েছে। তাই চাইলেই কোন প্রিসাইডিং অফিসার রাতে ভোট বা কোন অনৈতিক কর্মকান্ড করার সুযোগ পাবেন না। ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। প্রশিক্ষণসহ পরবর্তী কার্যক্রম অচিরেই শুরু হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকারের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম শাহীন, বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালী সরকার, কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন, ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনী খাতুন, সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন শাফায়াত, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মো. সিদ্দিকুর রহমান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী পরিচালক গোলাম কিবরিয়া, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী পরিচালক নাজমুল হক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আলীম গাজী, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজুল হোসেন প্রমুখ।
Leave a Reply