অনলাইন ডেস্ক:
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৩ শতাংশ কেন্দ্রকে অতি গুরত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দাপ্তরিক ভাষায় এসব কেন্দ্রকে গুরত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হলেও মূলত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকেই এই তালিকায় রাখা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি রাখবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বাইরে উপজেলাকেন্দ্রিক আসনগুলোতে মোট ভোটকেন্দ্র ১ হাজার ৩৫৮টি। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪৫টি কেন্দ্রকে অতিগুরত্বপূর্ণ বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত হয়েছে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে। এই আসনে ৬৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।
এছাড়া সীতাকুণ্ডে ৪৮টি, চন্দনাইশে ৪২টি, বাঁশখালীতে ৪১টি, হাটহাজারীতে ৩০টি, সন্দ্বীপে ২৪টি, পটিয়ায় ২৪টি, বোয়ালখালীতে ২৫টি, রাউজানে ২১টি, আনোয়ারায় ১৩টি, রাঙ্গুনিয়ায় ছয়টি ও ভূজপুরে তিনটি কেন্দ্র অতি গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, অতীতের রেকর্ড ও গুরুত্ব বিবেচনায় এসব ভোটকেন্দ্র অধিক গুরত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ, বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সিসি-ক্যামেরা থাকবে। পাশাপাশি কেন্দ্রের গুরত্ব অনুযায়ী মোবাইল টিমও প্রস্তুত থাকবে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) তালিকা অনুযায়ী, নগরীর চারটি আসন ও চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম-৫ ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের আংশিক (নগর) এলাকায় অবস্থিত ১৬টি থানা এলাকায় ৬০৭টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৩১০টি কেন্দ্রকে অতি গুরত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এরমধ্যে, খুলশী থানা এলাকার ৪৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৪টি এবং আকবর শাহ থানার ২৩টি কেন্দ্রের সবগুলি গুরত্বপূর্ণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া কোতোয়ালীতে ৩৮টি, সদরঘাটে ১৫টি, চকবাজারে ৪টি, বাকলিয়ায় ১৩টি, চান্দগাঁওয়ে ২৭টি, পাঁচলাইশে ১৯টি, বায়েজিদ বোস্তামীতে ১৮টি, ডবলমুরিংয়ে ১৮টি, হালিশহরে ৩২টি, পাহাড়তলীতে ২০টি, ইপিজেডে ১৩টি, পতেঙ্গায় ৭টি ও কর্ণফুলীতে ১৯টি অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। তবে বন্দর থানা এলাকায় কোনো গুরত্বপূর্ণ কেন্দ্র নেই।
সিএমপির ডেপুটি কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. রইছ উদ্দিন জানান, অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের নিদের্শনা অনুযায়ী সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক থাকবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা বেশকিছু মানদণ্ড সামনে রেখে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্রের তালিকা তৈরি করেছে। বিশেষ করে অতীতে যেসব কেন্দ্রে সহিংসতা, ভাঙচুর, ব্যালট ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটেছে সেগুলোকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ভৌগলিক অবস্থান, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা, ভোটকেন্দ্রের দুর্বল অবকাঠামো, প্রার্থী বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার বাড়ি থেকে দূরত্ব বিবেচনায় কেন্দ্রগুলোর ঝুঁকি ও গুরত্বের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রতিটি অতি গুরত্বপূর্ণ কেন্দ্রে একজন সশস্ত্র সেকশন কমান্ডারের নেতৃত্বে চারজন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য ও একজন সশস্ত্র আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় থাকবেন একজন সশস্ত্র আনসার সদস্য, একজন সশস্ত্র সহকারী সেকশন কমান্ডার, লাঠিসহ চারজন নারী আনসার ও ছয়জন পুরুষ আনসার সদস্য।
চলছে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি
এদিকে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ কার্যক্রম আয়োজনের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় ও নির্বাচনি কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে আসনভিত্তিক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনের দিন ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন রিকুইজিশনসহ যাবতীয় কাজ শেষ করেছেন।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, ভোটগ্রহণের জন্য ব্যালট বক্স, বিভিন্ন ধরনের নির্দেশিকা সম্বলিত পোস্টার, ফেস্টুন, প্রয়োজনীয় কাগজ-কলমসহ যাবতীয় সরঞ্জাম কেন্দ্রগুলোতে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। দূরত্ব ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় বুধবারের মধ্যে এসব সরঞ্জাম পৌঁছানো হবে।