প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ৩, ২০২৬, ২:৪৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ২, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
শরণখোলায় জামাত নেতাকর্মীর হামলায় যুবদল কর্মী নিহত

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালি গ্রামের বিলের রাস্তা এলাকায় নির্বাচনের পরবর্তী একটি মারামারি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করার অভিযোগ তুলে যুবদল কর্মী আরিফুল ইসলাম মাসুম কে জামাতের কতিপয় নেতা কর্মী সন্ত্রাসী স্টাইলে হাতুড়ি লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে শরণখোলা উপজেলা স্বায়ত্ত কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার ১০ মিনিট পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। ১ লা মার্চ রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলা খুড়িয়াখালী গ্রামের পিলের রাস্তা এলাকায় এঘটনা ঘটে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আত্মীয়-স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের দিন ১৩ই ফেব্রুয়ারি ওই এলাকার কতিপয় জামায়াতের নেতাকর্মী স্থানীয় বিএনপি'র ১০/১২ জন নেতা কর্মীকে নির্বাচন সংক্রান্ত ঘটনার জের ধরে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে । ওই ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করে যুবদল কর্মী আরিফুল ইসলাম মাসুমের ভাতিজা সাগর হাওলাদার। পরে সাগর ওই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করলে তা শেয়ার করে আরিফুল ইসলাম মাসুম।
এ ঘটনাকে পুঁজি করে ১লা মার্চ রাতে মাসুম তার শ্বশুর ডালিম খানের বাড়ি বেড়াতে আসলে সেখান থেকে ফেরার পথে স্থানীয় জামাত নেতা বারেক শরীফ, আফজাল, রাসেল ও মিজানে নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের জামাত ও শিবিরের সঙ্গবদ্ধ সন্ত্রাসী দল আরিফুল ইসলাম মাসুমের উপর লোহার রোড, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এছাড়া ৮/৯ জন সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে তার বুকের উপরে লাথি মারে এতে তিনি বুকে ব্যাপক আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
এ সময় স্থানীয়রা ছুটে আসলে ওই সঙ্ঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে আত্মীয়-স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লিট নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অক্সিজেন দিয়ে তাকে কিছুটা সুস্থ করার চেষ্টা করে। গুরুতর আহত আরিফুল ইসলাম জানায় তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করছেন এর ১০ মিনিট পর হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে মাসুম। বিষয় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার প্রিয় গোপাল বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে আরিফুল ইসলাম মারুফ মাসুম মারা যায় ধারণা করা হচ্ছে তিনি শরীরের মধ্যে কোথাও গুরুতর আঘাত লাগার কারণে মৃত্যুবরণ করেছে তবে ময়নাতদন্তে মৃত্যুর আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।
ঘটনার পর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলন সাউথখালি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহীদুল আলম লিটন সহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। এছাড়া আরিফুল ইসলামের মা, স্ত্রী ভাই ও আত্মীয়-স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে আসলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। তার স্ত্রী ও মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ঘটনা শুনে বাগেরহাট জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফ উল্লাহ শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসেন এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের সাথে ঘটনার বিষয়টি জানার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় ওই রাতে জামাতের চার নেতাকর্মীকে শরণখোলা থানা পুলিশ আটক করে। আটকৃত হল উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালি খালি গ্রামের জামায়াত নেতা মোঃ খলিল বয়াতি, তানজের আলী, শাহীন ও শাহজাহান বয়াতি।
এ ব্যাপারে শরণখোলা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ শামীনুল হক বলেন, ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে থানা পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে ওই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না হয়।
এ ব্যাপারে শরণখোলা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলন বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকে জামাতপন্থীরা সন্ত্রাসী স্টাইলে বিএনপির কর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে আসছে ওই সকল ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ কাউকে আটক করেনি। এ সকল ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হলে আজকে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা দেখতে হতো না। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের ঊর্ধ্বতম কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির বলেন, সাউথখালীর ঘটনায় বিএনপির যে কর্মী মারা গেছে তাতে জামাতে ইসলামীর যাদেরকে জড়ানো হয়েছে তারা আদৌ জামাতের রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। সংঘবদ্ধ একটি গ্রুপ রাজনৈতিক ভাবে জামাতকে হেয় প্রতিপন্ন করতে জামায়াতকে জড়ানোর চেষ্টা করছে।
স্বাধীন বাংলা নিউজ 24.com limited কর্তৃক প্রকাশিত।