প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ৮, ২০২৬, ৪:৫৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবনে মধু আহরণ মৌসুম শুরু, বাঁধা হতে পারে বনদস্যু বাহিনী

আ: মালেক রেজা শরণখোলা (বাগেরহাট) থেকে:
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনে ১ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের মধু আহরণ মৌসুম। উপকূলীয় বনজীবী ও মৌয়ালদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বনের গভীরে প্রবেশের অনুমতি (পাস) ১লা এপ্রিল থেকে দেওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তারক্ষী সাথে দেওয়া হবে এজন্য আগামী ৪ এপ্রিল থেকে পাশ দেওয়া হবে বলে বনবিভাগ জানায়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। বনবিভাগ আশা করছে, অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবছর শরণখোলা রেঞ্জে ৫৫০ কুইন্টাল ও চাঁদ পাই রেঞ্জ ৪৫০ কুইন্টাল মধু এবং ৬০০ কুইন্টাল মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। সুন্দরবনে বনদস্যুদের উৎপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় এবছর কাঙ্খিত মধু আহরণ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে মৌয়াল ও বনবিভাগের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।
বনবিভাগের পক্ষ থেকে জানা গেছে, এবছর মধু সংগ্রহের জন্য শরণখোলা রেঞ্জ থেকে আটটি বিএলসি সংগ্রহ করেছে মৌয়াললরা। মৌসুম ঘিরে এবছর সব ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনকর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া সহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ৪ এপ্রিল থেকে মৌয়ালরা যাতে নির্বিঘ্নে বনে প্রবেশ করতে পারেন, সেজন্য তারা কড়া পাহারার ব্যবস্থা করেছে।অবৈধভাবে আগাম মধু আহরণ ও মধু চুরির অভিযোগ প্রসঙ্গে বনবিভাগের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি ও পর্যাপ্ত নজরদারি রাখা হয়েছে যাতে কেউ নির্ধারিত সময়ের আগে বা অবৈধভাবে সুন্দরবন থেকে মধু চুরি করতে না পারে। যদি কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া বনবিভাগের পাশাপাশি কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ টহল এবং নজরদারি জোরদার করা হবে যা মৌয়ালদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। এছাড়া মৌয়ালদের সন্ধ্যার সময় বিভিন্ন স্টেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে সুন্দরবন মধু সংগ্রহের কাজ করে এমন কয়েকজন মৌয়াল বলেন, বনবিভাগের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগ সাজেসে প্রতিবছর মধু মৌসুম শুরুতেই অভয়ারণ্য এলাকায় বিশেষ টিম গঠন করে তারা পাঠায় সেজন্য তারাই সবচেয়ে বেশি মধু সংগ্রহ করে যার একটি অংশ মৌলয়ালরা নেয় বাকিটা শরণখোলার রায়েন্দা বাজার, মোড়লগঞ্জ, বাগেরহাট ,মঠবাড়িয়া, খুলনা সহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এবছর বনবিভাগের কঠোর অবস্থানের বিপরীতে মাঠপর্যায়ের মৌয়ালদের মধ্যে এখনও দস্যু আতঙ্ক বিরাজ করছে। শরণখোলা ও বগী এলাকার মৌয়াল আনোয়ার ফকির, মন্টু পেঁদা ,আউয়াল খাঁ, হারেজ হাওলাদার, ইব্রাহিম কবিরাজ অভিযোগ করে বলেন, বনদস্যুদের চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের কারণে অনেক মৌয়াল এছর বনে যেতে ভয় পাচ্ছেন। তবে অনুকূল পরিবেশ হলে গতবারের চেয়ে এবছর মধুর বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।উল্লেখ্য গত বছর ৬৪৭ কুইন্টাল মধু ও ৩০০. কুইন্টাল মোম সংগৃহীত হয়েছে।
এ ব্যাপারে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী ও শরণখোলা রেঞ্জে কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, বনদস্যুদের উৎপাতের কারণে লক্ষ্যমাত্রা মাত্রায় পৌঁছাতে বিঘ্ন ঘটতে পারে তবে বিষয়টি মাথায় রেখে এবছর যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং কোস্টগার্ডের সাথে আলোচনা করে সব ধরনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। বিগত বছরে যে ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এ ধরনের অনিয়ম এ বছরে হবে না বলে তারা আশ্বস্ত করেছেন।
স্বাধীন বাংলা নিউজ 24.com limited কর্তৃক প্রকাশিত।