
স্বাধীন বাংলানিউজ ডেস্ক:
নড়াইলের সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর পাঁচ খুনের মামলার অন্যতম আসামি রনি শিকদারকে আটক করেছে র্যাব-৬ যশোরের সদস্যরা । নড়াইল সদর উপজেলার তারাপুর শিকদার বাড়ি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে । আটককৃত রনি শিকদার ওই এলাকার আমিন শিকদারের ছেলে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে ও জড়িত অন্যদের ধরতে র্যাব কাজ করছে বলে র্যাবের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এরআগে সোমবার ভোরে নড়াইলের বড়কুলা গ্রাম এক রক্তক্ষয়ী রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের মোল্লার রাজনৈতিক ভোলবদল এবং এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির ‘পুরানো বনাম নব্য’ দ্বন্দ্বই এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। ৫ই আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সুযোগে খায়ের মোল্লার অনুসারীরা এলাকায় ফিরতে শুরু করলে খলিল মোল্লা গ্রুপের সাথে তাদের সংঘর্ষ বাধে। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানি আর চিৎকারে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম।
এই নৃশংস সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান খলিল গ্রুপের খলিল রহমান, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, এবং ফেরদৌস হোসেনসহ তাঁর ছেলে মুন্না শেখ। অন্যদিকে, পাল্টা আঘাতে খায়ের গ্রুপের ওসিবুর মিয়াও নিহত হন। বাবা-ছেলেসহ একই পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে আসে।
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের ধরতে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৬ যশোরের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তারাপুর থেকে রনি শিকদারকে আটক করে। র্যাব জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নড়াইলের পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
Leave a Reply