ভারতীয় নাকি বাংলাদেশি, সেই প্রশ্নেই যশোরের বেনাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় তিন দিন ধরে আটকে আছেন নারী ও শিশুসহ ১২ জন। বাংলাদেশ ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের পতাকা বৈঠকেও এ নিয়ে এখনও কোনো সমাধান হয়নি। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এর আগে রোববার ওই সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা করলে তা রুখে দেয় বাংলাদেশ সীমান্তরীক্ষী বাহিনী (বিজিবি)। তখন থেকে সেখানেই আটকে আছেন তারা।
বিজিবি ও সীমান্তে বসবাসকারীরা জানান, ভারতের জয়েন্ত্রীপুর ক্যাম্পের বিএসএফ রোববার দিবাগত রাতে সাদিপুর সীমান্তের খড়ের মাঠ দিয়ে ১০ থেকে ১২ জন নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। এ সময় সীমান্তের ২১/৬ পিলারের কাছে টহলরত বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। বিজিবির প্রতিরোধে পিছু হটে বিএসএফ।
তবে জিরো লাইনে ১২ জন নারী–পুরুষ আটকা পড়েন। আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন দিন ধরে বেনাপোল সাদিপুর সীমান্তের জিরো লাইনে আটকে আছেন এসব ব্যক্তিরা।
যশোর ৪৯ বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই ১২ জন কোন দেশের নাগরিক তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ নিয়ে গতকাল সোমবার পতাকা বৈঠক হলেও সেখানে কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে খোলা আকাশের নিচে রৌদ্রে এসব নারী শিশু ও পুরুষেরা অমানবিক দুর্ভোগে পড়েছেন।
আজ দুপুরে সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান বিজিবির এক কর্মকর্তা।
এদিকে সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ মুখেমুখি অবস্থানে রয়েছে। পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অনুপ্রবেশ রোধে দিনে-রাতে সীমান্ত এলাকায় গণ-সচেতনতা করা হচ্ছে মাইকিংয়ের মাধ্যমে। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবি কড়া নজরদারিতে রয়েছে বলে জানান স্থানীরা।
এর আগে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক গোলম মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ আলম খান জানান, বেনাপোল সাদিপুর খড়েরমাঠ এলাকা দিয়ে বিএসএফ বেশ কয়েজনকে পুশইনের চেষ্টা করলে জিরো লাইন এলাকায় রুখে দেওয়া হয়।