
ক্রীড়া ডেস্ক:আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসে লিওনেল মেসির নাম চিরকাল অমর। আজ ঠিক সেই মাটিতে, যেখানে তার আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল, নিজ দেশের ভক্তদের সামনে মেসি মাঠের শেষ প্রদর্শনী দিলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে অবসরের ঘোষণা দিলেন জোড়া গোল করে—এক আবেগঘন ম্যাচে।মাঠে মেসির পরিবারের উপস্থিতি ছিল স্পেশাল। বাবা, মা, সন্তান এবং প্রিয়জনদের চোখের সামনে দেশের হয়ে স্বপ্নপূরণের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে নিলেন মেসি। কণ্ঠে আবেগ মিশ্রিত, তিনি জানালেন—এভাবেই শেষ করতে পারা তার সবসময়ের স্বপ্ন ছিল।
“আমি খুবই খুশি। এভাবেই শেষ করতে পারা আমার সবসময়ের স্বপ্ন ছিল। আমার নিজের মানুষদের সঙ্গে এইভাবে বিদায় নেওয়ার সুযোগ পাওয়াটা আমার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি,” মেসি বলেন।এই মুহূর্তটি শুধু ফুটবলই নয়, একটি আবেগঘন ইতিহাসও হয়ে গেছে। স্টেডিয়ামে ভক্তরা ক্রন্দন ও উল্লাসের মিশ্রণ নিয়ে তার প্রতি ভালোবাসা জানিয়েছেন।বার্সেলোনায় দীর্ঘদিন খেলে যে ভালোবাসা পেয়েছিলেন, সেটিই মেসির দেশে খেলার শেষ মুহূর্তেও দেখা গেল। তিনি জানান, অনেক বছর ধরে আমি বার্সেলোনায় মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি।
আমার স্বপ্ন ছিল দেশে এসে সেটি যেন পাই। অবশেষে সেটা সম্ভব হলো।জাতীয় দলের হয়ে কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ জয়—এই দুটি মহাকাব্যিক অর্জন মেসির ক্যারিয়ারে স্বর্ণাক্ষরে লেখা। তবে আর্জেন্টিনার মাটিতে তার যাত্রা সহজ ছিল না।“অনেক বছর ধরে অনেক কথা হয়েছে। তবে আমি ভালো জিনিসগুলোই মনে রাখতে চাই। দলটা চেষ্টা করেছিল কিন্তু পারছিল না। পরে আমাদের কয়েকজনের জন্য সেটা সম্ভব হলো। যেটুকু অর্জন করেছি, যেটুকু পথচলা কেটেছে—সবই অসাধারণ।”আজকের ম্যাচে মেসি দুইটি গোল করেছেন। একদিকে তার অবিস্মরণীয় খেলা, অন্যদিকে ভক্তদের আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে এক আবেগঘন দৃশ্য তৈরি হয়েছে।
তার জাদুকরী পাস, গোল এবং মাঠে দৌড়—সবই স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে।ভক্তদের চোখে চোখ রেখে মেসি জানিয়েছেন, যদিও আজ তিনি দেশীয় মাটিতে বিদায় নিলেন, ভবিষ্যত নিয়ে তার কিছু পরিকল্পনা এখনো অনিশ্চিত।মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার বিষয়ে বলেন, বয়স হয়েছে, আমি আগেও বলেছি মনে হয় না আরেকটি খেলতে পারব। তবে এখনো অনুপ্রেরণা পাচ্ছি।
আপাতত আমি দিন ও ম্যাচ ধরে এগোতে চাই।আর্জেন্টিনার শেষ বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচ হবে ১০ সেপ্টেম্বর ইকুয়েডরের বিপক্ষে। তবে মেসি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, ওই ম্যাচে তিনি খেলবেন না।মেসির বিদায় ভক্তদের হৃদয়ে এক অদ্ভুত শূন্যতা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষ তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন, একদিকে আবেগ, অন্যদিকে প্রশংসা। অনেকেই লিখেছেন, আমরা কখনও এমন খেলোয়াড় আর পাব না।ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেসি শুধু গোল না করে খেলার মান, মনোভাব এবং নীতি—সবকিছুর প্রতীক হয়ে গেছেন। তার অবদান কেবল আর্জেন্টিনার জন্য নয়, সমগ্র বিশ্ব ফুটবলের জন্য অনন্য।
Leave a Reply