
মাসুম মির্জা ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি:
(৬ই অক্টোবর) সোমবার সনাতনী ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় আনন্দের উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো৷ বাংলার ঘরে ঘরে ধনদেবীর আরাধনায় মেতে উঠবেন গৃহিণীরা ৷ সাধারণ গৃহস্থ থেকে সেলিব্রিটির পরিবার – সব জায়গাতেই সাড়ম্বরে করা হয় শারদলক্ষ্মীর বন্দনা।
দিনে নয়, রীতি অনুযায়ী মা লক্ষ্মী পুজো নেন রাতে৷ কোজাগরী পূর্ণিমার চাঁদ আকাশে উঠার পর পুজো শুরু বাংলার ঘরে ঘরে। এ বছর কখন শুরু পুজো, কী বলছে পঞ্জিকা দেখে নেব। সেই সঙ্গে দেখে নেওয়া যাক, মা লক্ষ্মীর আরাধনায় কোন কোন জিনিস রাখতেই হবে। কী কী উপকরণ লাগবে পুজোয় মা লক্ষ্মীর পুজো সাধারণত বাড়ির মহিলারা নিজে হাতেই করে থাকেন।
আলপনা আঁকা মা লক্ষ্মীর পুজোর রীতি। ভুলবেন না। লক্ষ্মীপুজোয় ব্যবহার করুন তামার পাত্র। এছাড়া পুজোর জন্য চন্দন, ধূপ, দীপ, ফুল ও তুলসী পাতা প্রয়োজন। তবে তুলসী লাগে নারায়ণকে নিবেদনের জন্য। মা লক্ষ্মীকে তুলসী নিবেদন করা হয় না। মা লক্ষ্মীকে পদ্মফুল নিবেদন করুন অবশ্যই। সেই সঙ্গে অবশ্যই রাখুন,ধান, হলুদ, পান, কড়ি, আতপ চাল। এছাড়া ঠাকুরকে অর্পণ করতে লাগবে মিষ্টি, ফল এবং মোয়া-নাড়ু ইত্যাদি।
এছাড়া ধান, দূর্বা, চন্দন, ধূপ, দীপ, ফুল, হরিতকী, দই, মধু, ঘি, চিনি ইত্যাদির জোগান রাখুন। লক্ষ্মী পুজোর সময় সাধারণত দুই পঞ্জিকা মেনে স্থির হয়। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে, পূর্ণিমা তিথি আরম্ভ সোমবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে। পূর্ণিমা তিথি শেষ পরদিন, মঙ্গলবার, সকাল ৯টা ১৮ মিনিটে। গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে, পূর্ণিমা তিথি আরম্ভ সোমবারই। সময়টা একটু আলাদা। সকাল ১১টা ১২ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডে পূর্ণিমা শুরু হচ্ছে।
পরদিন ৭ অক্টোবর, মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৩১ মিনিট ২৭ সেকেন্ড তিথি স্থায়ী হবে। ‘কোজাগরী’ শব্দটির মানে কী ‘কোজাগরী’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘কঃ জাগর’ শব্দবন্ধ থেকে। ‘কঃ’ মানে কে, ‘জাগর’ শব্দের অর্থ জেগে আছ। অর্থাৎ, কে জেগে আছ? মানুষের বিশ্বাস, এদিন রাতে স্বর্গ থেকে মর্ত্যে নেমে আসেন দেবী৷ যেভক্ত রাত জেগে তাঁর আরাধনা করেন, তাঁকে আশীর্বাদ করে যান তিনি৷
Leave a Reply