
জামির হোসেন।।
এবারে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী রাশেদ খান। আর বিগত একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রিয় সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। সর্বশেষ যাচাই বাছাইয়ে ওই দুই জনের প্রার্থীতা বৈধ হলেও বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীরা। তারা এখন কে কার পক্ষে কাজ করবেন এ নিয়েই আছেন চরম বিপাকে। এছাড়াও আসনটিতে স্বতন্ত্র র্প্রাথী হয়ে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির উপদেষ্টা সদস্য মুর্শিদাজামান পপি মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তিনি তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন- আহবায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ মনোনয়ন ফর্ম কিনলেও তিনি তা জমা দেননি। এরপরও আসনটিতে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে একজন বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় ভোটের হিসাব নিকাশে চলছে নানান জল্পনা কল্পনা। বিষয়টি স্থানীয় শীর্ষ পর্ষায়ের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও শহর ও গ্রামাঞ্চলের সাধারন মানুষের মুখে এখন আলোচনার প্রধান খোরাক হয়ে দাড়িয়েছে।
আসনটিতে মনোনয়নপত্র জমাদানকানীদের সর্বশেষ যাচাই বাছাইয়ে বিএনপির প্রার্থী রাশেদ খান, স্বতন্ত্র (বিএনপি) সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আবু তালিব, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল জলিল, জাতীয় পাটির এমদাদুল ইসলাম বাচ্চু ও গনফোরামের খনিয়া খানমসহ ছয় জনের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষনা করেছে ঝিনাইদহ জেলা রিটানিং কর্মকতা। মোট নয়জন জমাদানকারীদের মধ্যে স্বতন্ত্র মূর্শিদাজামান পপি, ওবাইদুল হক রাসেল ও মীর আমিনুল ইসলামসহ তিন জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল বলে গন্য করা হয়।
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের বিএনপির সাধারন কর্মী ও সমর্থকদের ভার্ষ্য, আসনটিতে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেতে দীর্ঘদিন ধরেই সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, হামিদুল ইসলাম হামিদ ও মুর্শিদাজামান পপি ভোটের মাঠে তৎপর ছিলেন। কিন্তু শেষ মুহুর্ত্বে এসে দলীয় মনোনয়ন বোর্ড গনঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রিয় সাধারন সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগকৃত এবং সদ্য বিএনপিতে যোগদানকৃত রাশেদ খানকে ধানের শীষের মনোনয়ন দিয়েছে। এতেই বিক্ষুব্ধ হয়ে দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়। ইতিমধ্যে একজন প্রত্যাহারও করলেও রয়ে গেছে আরো একজন। তার অনুসারী কর্মী সমর্থকদের মন্তব্য, প্রত্যাহারের আগমুহুত্ব পর্ষন্তও প্রার্থীতা পরিবর্তনও হতে পারে। সে লক্ষেই তারা স্বতন্ত্র প্রার্থীতা জমা দিয়েছেন।
এসব নিয়ে স্বতন্ত্র (বিএনপি) মনোনয়নপত্র জমাদানকারী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, তিনি একাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনটিতে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন। এলাকার সিংহভাগ বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষ তার সাথে আছে। তিনি বলেন, সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী রাশেদ খান বাইরের মানুষ। তিনি এ আসনের ভোটার নন। এ আসনের অনেকেই তাকে চিনেন না। দলীয় নেতাকর্মীদের সাথেও তেমন পরিচিতি নেই। যে কারনে নির্বাচনে আশানুরুপ ফল পাওয়া অসম্ভব। তিনি বলেন, বিএনপির স্থানীয় নেতা, কর্মী ও সাধারন ভোটাররা তাকেই চাই। তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে তিনি ভোটের মাঠে থাকতে চান। সর্বশেষ এখনো তার পক্ষে দলীয় প্রতিক বিবেচনায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি বিনিত আহব্বান জানিয়েছেন।
বিএনপি ধানের শীষের মনোনিত রাশেদ খান বলেন, এ আসনটিতে নির্বাচন করার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্রসন তারেক রহমান তাকে পাঠিয়েছেন। এখানে যারা বিএনপির রাজনীতি করেন তারা অবশ্যই দল বা দলীয় প্রতিক ধানের শীষের পক্ষেই কাজ করবেন। তিনি বলেন, এ আসনে আরো যারা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তাদের মনে কষ্ট থাকতেই পারে। এটি শিঘ্রই নিরসন হয়ে যাবে। বিএনপিকে ক্ষমতার আসনে বসাতে শিঘ্রই আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দ্দেশে সবাই একসাথে কাজ করবেন বলে তিনি আশাবাদী।
Leave a Reply