
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি :
পিরোজপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন এর প্রচারণার প্রথম দিনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের সাথে হট্টগোল হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা শহরের কাঠপট্টি এলাকায় হট্টগোলের এ ঘটনা ঘটে। তবে হট্টগোলের ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।
মাহমুদ হোসেন বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে। তবে দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বলার পরও মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায়, বুধবার কেন্দ্রীয় কমিটি তার প্রাথমিক সদস্যপদ সহ দলের সকল পর্যায় থেকে তাকে বহিষ্কার করেছে।
মাহমুদ হোসেন ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দলীয় মনোনয়ন চাচ্ছিলেন। তবে মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে মাহমুদ হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা ঋণ খেলাপির জন্য তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করেন যা নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানিতে বহাল থাকে। সবশেষ উচ্চ আদালতের আদেশে তিনি মনোনয়ন ফিরে পান। এরপর গত বুধবার তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে ঘোড়া প্রতীক বরাদ্দ পান।
প্রচারণার প্রথম দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে মাহমুদ হোসেন তার নেতা কর্মীদের নিয়ে নেছারাবাদের ছারছীনা দরবার শরীফের পীরের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। সেখান থেকে বেরিয়ে দুপুর একটার দিকে স্বরূপকাঠী পৌরসভার কাঠপট্টিতে অবস্থিত সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম উজ্জল এর অফিসে যান মাহমুদ। তখন সেখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহম্মদ সোহেল মনজুর এর লোকজন জড়ো হয়ে মাহমুদের লোকজনের উপর হামলার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় হামলাকারীরা সেখানে কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করে বলেও অভিযোগ করেন মাহমুদ। তবে সেখানে মারামারির কোন ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। তার অভিযোগ সোহেল মনজুর এর সমর্থক নাসির উদ্দিন তালুকদার, তার ভাই সোহেল তালুকদার এবং আনিস সহ আরও কয়েক জনের নেতৃত্বে হামলার এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া সুষ্ঠ নির্বাচন ছাড়া বিএনপি’র দলীয় কোন সমর্থন চান না বলেও জানান মাহমুদ।
তবে মাহমুদের উপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে নাসির উদ্দিন বলেন, উদ্দেশ্য প্রণোদীতভাবে তাদের দুই ভাইয়ের উপর হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সেখানে হামলার কোন ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি তার।
নাসিরের দাবি মাহমুদের সমর্থক উজ্জল এর অফিসে খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান ও বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর ছবি টাঙানো ছিল। যেহেতু দল থেকে মাহমুদকে বহিষ্কার করেছে, এজন্য তারা সেখানে গিয়েছিল বিএনপি’র নেতৃবৃন্দের ছবি সরিয়ে ফেলতে বলার জন্য।
ঘটনার বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান জানান তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা পৌছানোর ফলে সেখানে মারামারির কোন ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন এবং বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
Leave a Reply