ঝিনাইদহে রোজিনা খাতুন নামে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে শ্বশুরবাড়ি থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে স্বামীকে তালাক কার্যকর হওয়ার আগেই স্বামীর এক বন্ধুকে বিয়ে করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশংকরপুর ইউনিয়নের নরহরিদ্রা গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে রোজিনা খাতুনের সঙ্গে একই উপজেলার খাজুরা পশ্চিমপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে সাজিদ হোসেনের পরিচয় গড়ে ওঠে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, স্বামীর বন্ধু হওয়ায় সাজিদের বাড়িতে যাতায়াতের সুযোগ ছিল এবং সেই সূত্র ধরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ মে ঝিনাইদহ পৌর এলাকার কালিকাপুর গ্রামে পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে রোজিনা খাতুন শ্বশুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় তিনি নগদ ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, প্রায় ৯ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার এবং একটি স্মার্টফোন সঙ্গে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গৃহবধূ নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। এক সপ্তাহ পর খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় রোজিনা ও সাজিদের অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর তারা ঝিনাইদহের একটি কাজি অফিসে বিয়ে সম্পন্ন করেন। পরে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে খুলনার পাইকগাছা এলাকায় সাজিদের আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করেন। এদিকে গত ৭ মে রোজিনা খাতুন তার স্বামীর কাছে তালাকের নোটিশ পাঠান। নোটিশ পাওয়ার পরই বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হন পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় আদালতে আবেদন করা হয়েছে। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি প্রতিকার দাবি করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে রোজিনা খাতুন বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় সাজিদ হোসেনকে বিয়ে করেছেন। তবে শ্বশুরবাড়ি থেকে কোনো নগদ অর্থ বা স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
অপরদিকে অভিযুক্ত সাজিদ হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।