• রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন

পশ্চিমবঙ্গে মসজিদের মাইক অপসারণ নিয়ে উত্তপ্ত রাজনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১০ Time View
Update : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মসজিদে আজানের জন্য ব্যবহৃত লাউডস্পিকার বা মাইক অপসারণকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটিগুলোর অভিযোগ, থানার পুলিশ মৌখিকভাবে মাইক খুলে ফেলতে চাপ দিচ্ছে। তবে রাজ্য প্রশাসনের দাবি, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের দাবিতে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে গঠিত এনসিপিআইয়ের তিন সংসদ সদস্য—সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান, খলিলুর রহমান ও আবু তাহের খান—কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, শব্দদূষণ রোধে আইন প্রয়োগ করা অবশ্যই প্রয়োজন। তবে সেই আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেন কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত না লাগে এবং সংবিধানপ্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে আজ শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আলোচনা করবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় নতুন রাজ্য সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে আদালত নির্ধারিত শব্দদূষণবিধি কঠোরভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী, দিনে সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দ করা যাবে না।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, সরকার কেবল আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের নির্দেশের পর রাজ্যের বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দির থেকে মোট ৫ হাজার ২৯৯টি লাউডস্পিকার অপসারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪ হাজার ২০৩টি মসজিদ এবং ১ হাজার ৯৬টি মন্দির রয়েছে। পুলিশকে জোরপূর্বক ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও অধিকাংশ কমিটি প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে বলে দাবি তার।

এই বিষয়ে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি ও তৃণমূল নেতা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে রাজ্যজুড়ে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন এবং এ বিষয়ে ডিজিপির কাছে আনুষ্ঠানিক সরকারি নির্দেশ জারির বিষয়ে জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।

বিপরীতে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে সবার প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বৈত মানসিকতা পরিহার করা উচিত। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা