• রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন

নবীনগরের টিয়ারা গ্রাম,ওসির সুদৃষ্টি চাই: এলাকাবাসী বারবার রক্তাক্ত আতঙ্ক

মাসুম মির্জা বিশেষ প্রতিনিধি / ৭৭ Time View
Update : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারা গ্রামটি এখন এক অশান্ত ও আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার এবং টাকার লেনদেন সংক্রান্ত পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে গ্রামে একের পর এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। দফায় দফায় টেঁটা, বল্লম ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হওয়া এসব দাঙ্গায় ঝরছে রক্ত, ভাঙচুর ও লুটপাট হচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে। এই পরিস্থিতিতে গ্রামটিকে শান্ত করতে এবং দাঙ্গাবাজদের রুখতে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরীর তীব্র ও আপসহীন হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাধারণ শান্তিকামী মানুষ।

নেপথ্যে ‘শিশু গ্রুপ’ ও ‘হোসেন চেয়ারম্যান গ্রুপ’ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টিয়ারা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ‘শিশু মিয়া গ্রুপ’ এবং ‘আবুল হোসেন চেয়ারম্যান গ্রুপ’-এর মধ্যে তীব্র বিরোধ চলে আসছে। গত ২ জুনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর গুরুতর আহত ইকবাল মিয়া (৬০) নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। যদিও তাঁর মৃত্যু নিয়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি রয়েছে, কিন্তু এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গ্রামের বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশু মিয়া বর্তমানে দেশের বাইরে পলাতক থাকলেও তাঁর অনুসারী মিন্টু মিয়া এবং হোসেন চেয়ারম্যান গ্রুপের সরুজ মিয়ার মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিরোধে পুরো গ্রাম বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মুচলেকা ও জামিন উপেক্ষা করে বারবার সংঘর্ষ গত ৪ আগস্ট মধ্যরাতে টিয়ারা গ্রামে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়ালে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ৬ জনকে আটক করে।

পরবর্তীতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে “ভবিষ্যতে আর কোনো দাঙ্গায় জড়াবে না” মর্মে থানায় মুচলেকা বা অঙ্গীকারনামা দিয়ে তারা ছাড়া পায়। কিন্তু সেই অঙ্গীকারনামার তোয়াক্কা না করে এবং পূর্বের মামলার আসামিরা জামিনে বের হয়ে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে জড়ালে পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে ব্যাপক বেগ পেতে হয়।

ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি ও জনমনে চরম আতঙ্ক উভয় পক্ষের এই মারমুখী অবস্থানের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন টিয়ারা বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রামবাসীরা। সংঘর্ষের সময় দোকানপাটে ভাঙচুর ও প্রকাশ্য লুটপাটের কারণে পুরো বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সাধারণ মানুষ যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তপাতের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। প্রশাসনের বক্তব্য ও ওসির সুদৃষ্টির আবেদন এ বিষয়ে নবীনগর থানার ওসি মোরশেদুল আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা