রিয়াল মাদ্রিদে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ২০২৭ সালে শেষ হতে যাওয়া চুক্তি নবায়নের বিষয়ে স্প্যানিশ জায়ান্ট ও ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের এজেন্টদের মধ্যে প্রায় দেড় বছর ধরে আলোচনা চললেও এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে ইউরোপের বেশ কয়েকটি শীর্ষ ক্লাব। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে আর্সেনাল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের তথ্য অনুযায়ী, ভিনিসিয়ুসকে দলে নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ইংলিশ ক্লাবটি। আর্সেনালের মালিকপক্ষও এই সম্ভাবনায় সম্মতি দিয়েছে বলে জানা গেছে।আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী করতে ভিনিসিয়ুসকে এখন আর্সেনালের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রিয়ালের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না হলে এমিরেটস স্টেডিয়ামে ব্রাজিলিয়ান তারকার পাড়ি জমানোর সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।
আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা ভিনিসিয়ুসকে খুব পছন্দ করেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। ওই ব্যক্তির ভাষায়, ভিনিসিয়ুস চুক্তি নবায়ন না করলে তাকে দলে নিতে আর্সেনাল প্রস্তুত।রিয়াল মাদ্রিদ ও ভিনিসিয়ুসের মধ্যে চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্থিক বিষয়। দুই পক্ষের মধ্যে বেতনের ব্যবধান এখনো উল্লেখযোগ্য। আগামী সপ্তাহে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২৪ সালে ফিফার ‘দ্য বেস্ট’ পুরস্কারসহ বিভিন্ন পারফরম্যান্স বোনাস পাওয়ার পর ভিনিসিয়ুসের বার্ষিক নিট আয় প্রায় ১৮ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রিয়াল মাদ্রিদ তাকে মৌসুমপ্রতি প্রায় ২০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দেয়। তবে ভিনিসিয়ুসের পক্ষ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া পাল্টা প্রস্তাবও গ্রহণ করেনি মাদ্রিদ।দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিনিসিয়ুস মূল বেতন, পারফরম্যান্স বোনাস ও একটি বিশেষ ‘রিনিউয়াল বোনাস’ মিলিয়ে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ইউরোর প্যাকেজ চেয়েছেন। এই রিনিউয়াল বোনাসই দুই পক্ষের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
রিয়াল মাদ্রিদ ভবিষ্যতে অন্য খেলোয়াড়দের চুক্তির ওপর প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় এই ধরনের বড় বোনাস দিতে রাজি নয়। অন্যদিকে ভিনিসিয়ুসের শিবিরের যুক্তি, বেতন কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে আয় বাড়ানোর অন্যতম উপায় হতে পারে এই বোনাস।এক্ষেত্রে সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পের চুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমবাপ্পে ২০২৪ সালে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে রিয়ালে যোগ দেন এবং বেতনের পাশাপাশি বড় অঙ্কের সাইনিং বোনাস পাওয়ায় তার মোট আয় ভিনিসিয়ুসের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
ভিনিসিয়ুসের চুক্তি জটিলতার সুযোগ কাজে লাগাতে গত কয়েক মাস ধরেই পর্দার আড়ালে কাজ করছে আর্সেনাল। ক্লাবটি ব্রাজিলিয়ান তারকাকে নিজেদের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী।এদিকে রিয়াল মাদ্রিদে ভিনিসিয়ুসের সম্ভাব্য বিকল্প নিয়েও আলোচনা চলছে। আরবি লাইপজিগের ইয়ান দিওমান্দেকে দলে নেওয়ার সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে আর্সেনাল। তাদের ধারণা, ভিনিসিয়ুস মাদ্রিদ ছাড়লে দিওমান্দেকে তার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে পারে স্প্যানিশ ক্লাবটি।
আর্সেনালের স্পোর্টিং ডিরেক্টর আন্দ্রেয়া বার্টা ইতোমধ্যে ভিনিসিয়ুসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। আর্সেনালের পরিকল্পনা হলো, ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে সাফল্য পাওয়া দলের অন্যতম প্রধান তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।রিয়াল মাদ্রিদ যেখানে ভিনিসিয়ুসকে বছরে প্রায় ২০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছে, সেখানে আর্সেনাল তার মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়কে পেতে নিজেদের প্রচলিত বেতন কাঠামোর বাইরে যাওয়ার কথাও বিবেচনা করছে। সম্ভাব্য চুক্তিতে সাইনিং বোনাস ও ইমেজ রাইটস বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে মূলত তিনটি পথ খোলা রয়েছে—রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে সই করা, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে আগামী গ্রীষ্মে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে ক্লাব ছাড়া অথবা তার আগেই আর্সেনালে যোগ দেওয়া।তবে রিয়ালের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের আলোচনা আগামী সপ্তাহে কোন দিকে এগোয়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এরই মধ্যে অনুশীলনে ফিরেছেন ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। নতুন কোচ হোসে মরিনিওর সঙ্গেও তার সম্পর্ক ভালো বলে জানা গেছে।ফলে ভিনিসিয়ুসের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম আলোচিত ট্রান্সফার গল্প হিসেবে বিষয়টি আলোচনায় থাকবে।