• সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

নেছারাবাদে জমি দখল নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ, এলাকায় উত্তেজনা

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: / ১৪ Time View
Update : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখলে বাধা, জমি দখলের চেষ্টা ও বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে চাচাতো ভাই আল আমিন ও জিহাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের মেসন্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি থাকায় এলাকায় বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে মেসন্ডা গ্রামে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাহাঙ্গীর কবির, আলমগীর কবির ও আল আমিন আপন চাচাতো ভাই। তাদের পরিবারের মধ্যে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, তাদের পৈতৃক সম্পত্তির বিভিন্ন অংশ বিএস রেকর্ডে তাদের মা-বাবার নামে রয়েছে এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব জমি ভোগদখল করে আসছেন।
জাহাঙ্গীর কবির ও আনোয়ার হোসেনের কেয়ারটেকার জামাল হোসেন বলেন, “বিগত প্রায় ৪০ বছর ধরে তাদের বাপ-দাদার আমল থেকে আমি কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। মালিকদের পিতা-মাতার নামে থাকা দলিল ও বিএস রেকর্ডীয় জমিজমা আমরা দেখাশোনা করে আসছি। সম্প্রতি আল আমিন ও তা ভাই জিহাদ এসব জমির মালিকানা নিয়ে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছেন। এমনকি ক্ষমতা ও বেশি শক্তির দাপট দেখিয়ে তাদের বিভিন্ন জায়গার জমি জোরপূর্বক দখলেরও চেষ্টা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আল আমিনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কিশোরদের কাছে গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রির অভিযোগও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া জাহাঙ্গীরদের একটি কাচারি ঘর দখল করে সেখানে মাদকের আড্ডা বসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কৃষক জুয়েল বলেন, “প্রায় ১৩ বছর ধরে আমি জাহাঙ্গীর কবির চাচার কাছ থেকে নগদ খাজনার ভিত্তিতে জমি নিয়ে চাষাবাদ করে আসছি। সম্প্রতি আল আমিন ও তার ভাই জিহাদ আমাকে জমিতে চাষাবাদের মধ্যম পর্যায় বাধা দিচ্ছেন।
একপর্যায়ে তারা আমার ট্রাক্টর ভাঙচুর করে ক্ষতি করা হয়েছে এবং আমাকে ও ট্রাক্টরের চালককে মারধর করে জমি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাদের পারিবারিক জমি নিয়ে কী বিরোধ রয়েছে, তা আমি জানি না। আমি শুধু দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছি।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে আল আমিন বলেন, মেসন্ডা গ্রামে তাদেরও বাপ-দাদার পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। তার চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর কবির ও আলমগীর কবির নিজেদের ইচ্ছামতো ওই সম্পত্তির বিএস রেকর্ড করে নিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে তিনি বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছেন বলেও জানান।
সরেজমিনে বিরোধপূর্ণ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট জমিতে এক পক্ষ চাষাবাদ করছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিটি বার্ষিক নগদ খাজনার ভিত্তিতে চাষাবাদের জন্য দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, আলমগীর কবিরের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষক জুয়েলকে জমিটি চাষাবাদের জন্য দেওয়া হয়েছে।
জমির মালিকানা নিয়ে জাহাঙ্গীর কবির বলেন, “বিরোধপূর্ণ জমি আমাদের মায়ের নামে এবং বিএস রেকর্ডীয় সম্পত্তি। আমরা দীর্ঘদিন বাড়িতে না থাকায় জমিটি নগদ খাজনার ভিত্তিতে স্থানীয় কৃষক জুয়েলের কাছে চাষাবাদের জন্য দেওয়া হয়েছে। সেই সূত্রেই বর্তমানে সেখানে চাষাবাদ হচ্ছে। আমার চাচাতো ভাইরা জমিটির মালিকানা দাবি করলেও এ বিষয়ে তারা কোনো বৈধ দলিল দেখাতে পারেনি। বরং আল আমিন ও জিহাদ বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানি করছেন এবং জমি ভোগদখলে বাধা দিচ্ছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। ফলে বিরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে উভয় পক্ষই বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা নিয়ে নিজেদের পক্ষে দাবি করছে। এক পক্ষের দাবি, তাদের নামে দলিল ও বিএস রেকর্ড রয়েছে; অন্য পক্ষের দাবি, পৈতৃক সম্পত্তির অংশ তাদেরও রয়েছে এবং ভুলভাবে রেকর্ড হওয়ায় তারা আইনি প্রতিকার চাইছেন।
জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়টি বর্তমানে স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিরোধের স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা