
নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নীলা মল্লিক নামে (২৫) এক ভুয়া ইন্টার্ন ডাক্তার আটক হয়েছে। বৃহস্পতিবার বলা পৌনে ১১ টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে আটকের পর তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে মুচলেকায় তিনি মুক্তি পেয়েছেন। নীলা মল্লিক বাগেরহাট সদর থানার জাহিদ মল্লিকের মেয়ে। বর্তমানে তিনি যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ভরতপুরে বসবাস করেন। এই নিয়ে গত ৩ মাসে হাসপাতাল থেকে দুই জন ভুয়া ডাক্তার আটক হলেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরতরা জানান, নীলা মল্লিক ডাক্তারের এপ্রোণ পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঘোরাফেরা করছিলেন। তার আচরণ সন্দেহজনক হলে ডা. শফিউল্লাহ সবুজ পুলিশে খবর দেন। ভুয়া ডাক্তার প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশ তাকে আটক করে।
হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য সোহেল রানা জানান, নীলা মল্লিক কোন উদ্দেশ্য নিয়ে ডাক্তারের এপ্রোণ পরে হাসপাতালে এসেছিলেন। তাকে আটকের পর হাসপাতালের কর্মকর্তাদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় নীলা মল্লিক দাবি করেন তিনি মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্সের চাকরি করেন। তবে নার্সের পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন নীলা মল্লিক।
এই বিষয়ে নীলা মল্লিক জানান, তার এক বন্ধুর সাথে দেখা করার জন্য এসেছিলেন। তিনি যশোর শহরে কোন এলাকা তেমন একটা চেনেন না। হাসপাতাল পরিচিত জায়গা হওয়ায় বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল মুঠোফোনে জানান, নীলা মল্লিক নামে কোন নার্স বা স্বাস্থ্য সহকারী তার হাসপাতালে কর্মরত নেই।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, নীলা মল্লিক নামে একজন ভুয়া ডাক্তারকে পুলিশ আটক করে তার কাছে আনেন। ভুল বুঝতে পারায় মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগ থেকে আব্দুর রহমান নামে এক ভুয়া ডাক্তার আটক হয়। তিনি ডাক্তার পরিচয়ে এক নারীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করে। আব্দুর রহমান যশোর শহরের শংকরপুর বাস টার্মিনাল এলাকার মুজিবুর রহমানের ছেলে।
Leave a Reply