
যশোর অফিস:
যশোরের চৌগাছা উপজেলার সলুয়া বাজারে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে কুপিয়ে এক মুদি দোকানিকে হত্যা করেছে এক সন্তাসী। এঘটনায় হামলাকারীকে গন পিটুনি দিলে সেও মারা গেছে। এ ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত দুজনের বাড়িই যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জগহাটি গ্রামের তবজেল মল্লিকের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪২) একই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে পলাশের নিকট থেকে জমি ক্রয় করেন।
পরবর্তীতে সেই জমিতে পলাশ তার মা ও বোনকে দিয়ে হক সেবা করান। এই ঘটনা নিয়ে রফিকুল ইসলাম ও পলাশের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। রফিকুল পলাশকে হক সেবা উঠিয়ে নিতে চাপ দেয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে রফিকুল সলুয়া বাজারে নিজের দোকান খোলার জন্য বাড়ি থেকে রওনা দেয়।
এ সময় চৌগাছা থানাধীন সলুয়া কলেজের সামনে আপেলের সমিলের সামনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা পলাশ তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পলাশ ধারালো হাসুয়া দিয়ে রফিকুল ইসলামের মাথা ও মুখমণ্ডলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। হামলার পর ঘটনাস্থলে রফিকুল ইসলাম লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিকুল ইসলামের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় নেওয়ার পথে নড়াইল পৌঁছালে রফিকুল ইসলাম মারা যান।
অন্যদিকে, স্থানীয়রা পলাশকে ধরে ব্যাপক মারপিট করে গুরুতর আহত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় পলাশকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গোটা গ্রাম জুড়ে চলছে শোকের মাতাম। এ বিষয়ে চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করীম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আব্দুর রউফ জানান, ঘটনার পরপরই এলাকায় আমাদের টিম অবস্থান করছে। এদিকে, এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম এলাকায় শান্তি প্রিয় মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলো। তিনি কারোর সাথে কখনো কোন দ্বন্দ্বে জড়াননা। অপর দিকে পলাশ এলাকায় মাদক সেবী ও বখাটে হিসেবে পরিচিত।
Leave a Reply