ঝিনাইদহে একের পর এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, মাদকের ভয়াবহ বিস্তার এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে অবশেষে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাহফুজ আফজালকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে এই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, বিদায়ী পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আফজাল জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে অবিলম্বে তার দায়িত্বভার অর্পণ করবেন এবং ৫ জুনের (আজ) মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ না করা হলেও, জেলাজুড়ে চরম অসন্তোষের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত কিছুদিন ধরে ঝিনাইদহে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছিল। বিশেষ করে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি সীমান্তঘেঁষা এই জেলায় মাদকের ভয়াবহতা রুখতে জেলা পুলিশের চরম ব্যর্থতা এবং রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে খোদ সরকারের উচ্চ মহলে নানা প্রশ্ন ওঠে।
বিভিন্ন মহল থেকে দীর্ঘদিন ধরেই বর্তমান পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছিল। অবশেষে আইজিপির এই নির্দেশনার মধ্য দিয়ে সেই গুঞ্জনের অবসান ঘটল। মো. মাহফুজ আফজালের স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাময়িকভাবে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ভারপ্রাপ্ত এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে জানা গেছে।
প্রশাসনিক এই রদবদলের হাওয়া লেগেছে দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও। ঝিনাইদহের এসপিকে প্রত্যাহারের ঠিক আগেই ফেনী, পঞ্চগড় ও মৌলভীবাজার—এই তিন জেলার পুলিশ সুপারদেরও একযোগে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রত্যাহারকৃত কর্মকর্তারা হলেন: ফেনী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান। পঞ্চগড়: পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। মৌলভীবাজার: পুলিশ সুপার মো. রিয়াজুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মাঠ পর্যায়ের পুলিশ প্রশাসনে গতিশীলতা ও চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের সমন্বয়ে এই বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে দেশের আরও বেশ কয়েকটি জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের পদেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।