
মো. রুহুল আমীন নেছারাবাদ পিরোজপুর:
পিরোজপুরের নেছারাবাদের পেয়ারার রাজ্য জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র আটঘর-কুড়িয়ানা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শান্ত ও সুশৃঙ্খল। উপজেলা প্রশাসনের নেয়া পদক্ষেপে এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে নিরাপদ ও স্বস্তির পরিবেশ। ফলে পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয়রা সবাই প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলামকে।
গত ২৭ জুলাই ছয় দফা নির্দেশনা জারি করেন নেছারাবাদের ইউএনও। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পর্যটন এলাকায় শব্দদূষণ ও অশ্লীলতা বন্ধ, প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ এবং বড় ট্রলারের চলাচল সীমিতকরণ। পাশাপাশি ভ্রমণকারীদের ছোট নৌযান ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, এসব সিদ্ধান্ত তাদের জীবনযাত্রা সহজ করেছে। পেয়ারা পার্ক ও পিকনিক স্পটের মালিক অর্নব মজুমদার বলেন, “আগে বড় ট্রলার আর লাউডস্পিকারের শব্দে পর্যটক ও স্থানীয়দের ভোগান্তি ছিল নিত্যদিনের। এখন পরিবেশ অনেক সুন্দর হয়ে গেছে।”
একই কথা জানালেন পেয়ারা চাষি মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল বলেন, “আমরা ছোট নৌকা দিয়ে পেয়ারা পরিবহন করি। আগে বড় ট্রলারের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকত। ইউএনওর সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য আশীর্বাদ।”
নৌকা চালক দেলোয়ার হোসেন ও সুজন জানান, ভ্রমণ মৌসুমে হাজারো পর্যটক আসেন। বড় ট্রলার ও উচ্চ শব্দের কারণে কাজ করতে সমস্যা হতো। এখন নির্দেশনার কারণে পর্যটকদের নিরাপদে ভ্রমণ করানো যাচ্ছে।
ইউএনও মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আটঘর-কুড়িয়ানা পরিবেশ-সংবেদনশীল এলাকা। তাই পর্যটনের পাশাপাশি প্রকৃতি ও স্থানীয় মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। নিয়ম মেনে চললে একে আরও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দেওয়া সম্ভব।” পর্যটকদের কথা চিন্তা করে ভ্রমনে নিয়ে আসা লাউডস্পিকার বন্ধসহ ছয় দফা নির্দেশনা জারি করেছি। যার ফলে আটঘর-কুড়িয়ানা পর্যটন এলাকাশি এখন শৃখলা ফিরেছে।
উল্লেখ্য, বর্ষা মৌসুমে ভাসমান পেয়ারা বাজার দেখতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় পড়ে আটঘর-কুড়িয়ানায়। সাম্প্রতিক প্রশাসনিক উদ্যোগে এলাকা হয়ে উঠেছে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও মনোমুগ্ধকর।
Leave a Reply