
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
নেছারাবাদে সমিতিতে জমাকৃত আমানত ফেরত না পেয়ে মানববন্ধন করেছেন আতা বহুমুখী সমবায় সমিতির কয়েক শতাধিক গ্রাহক। সমিতির পরিচালক উত্তম মিস্ত্রী ও ম্যানেজার হাসিবুল দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মাসের পর মাস ঘুরিয়েও তারা আমানত ফেরত দিচ্ছেন না।
উল্টো টাকার দাবি করলেই মামলা ও হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এদিকে, গ্রাহকদের টাকা ফেরত না দিয়ে সমিতির সাতটি শাখা পিরোজপুরের অভিজিৎ মন্ডল নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন উত্তম মিস্ত্রী। এতে আরও শঙ্কায় পড়েছেন শত শত গ্রাহক। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের চাদকাঠি বাজারে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে ভুক্তভোগীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে তাদের অসহায়ত্বের কথা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। মানববন্ধনে সমিতির শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন। ভুক্তভোগী ছালেহা বেগম জানান, ভিক্ষার টাকায় সংসার চালিয়ে তিনি ৮২ হাজার টাকা জমা করেছিলেন। ছয় বছরে দ্বিগুণ মুনাফার আশায় ওই টাকা জমা রাখলেও ফেরত চাইতে গেলে সমিতির পরিচালক ও ম্যানেজারের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।
তার মতো আরও অনেকে—দিনমজুর খাদিজা, নাজমা, হাজেরা—মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বলেন, রোঙ্গাকাঠি শাখার প্রায় চার শতাধিক গ্রাহক এখনো তাদের পাওনা ফেরত পাননি। অভিযোগ রয়েছে, উত্তম মিস্ত্রী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে একাধিক সমিতি খুলে মাঠকর্মীদের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ করতেন। ছয় বছরে দ্বিগুণ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে দিনমজুর, অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আমানত নেন।
কিন্তু ফেরত চাইতে গেলে গ্রাহকেরা উল্টো হয়রানির শিকার হন। এমনকি সম্প্রতি কিছু গ্রাহক টাকা চাইতে অফিসে গেলে উত্তম মিস্ত্রী থানায় গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ‘অফিস লুটের’ মামলা করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তম মিস্ত্রী বলেন, “আমরা মাঠে টাকা বিনিয়োগ করেছি। সবাই একসাথে টাকা চাইছে, দেওয়া সম্ভব নয়।
নেছারাবাদ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. হাসান রকি জানান, উত্তম মিস্ত্রী বিভিন্ন জেলা থেকে লাইসেন্স নিয়ে অবৈধভাবে প্রায় ২২৮ কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করেছেন। এই অর্থ দিয়ে তিনি ও তার আত্মীয়স্বজনের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। ইতোমধ্যে আতা বহুমুখী সমবায় সমিতির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।
Leave a Reply