• মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৬:২১ অপরাহ্ন

শরণখোলায় সংখ্যালঘুর বাড়িতে সঙ্গবদ্ধ চক্রের হামলা ভাঙচুর, লুটপাট গ্রেপ্তার – ২

আব্দুল মালেক রেজা শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি / ১৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

জমি দখলকে কেন্দ্র করে ‌ সোবাহান হাওলাদার তার পুত্র ও ভাড়াটিয়া একদল সঙ্গবদ্ধ চক্রের সহযোগিতায় বাগেরহাটের শরণখোলায় সংখ্যালঘু একটি পরিবারের ওপর হামলা, বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় রবিন ঢালী  ৫মে রাত সাড়ে বারোটার দিকে বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় ২৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার পর শরণখোলা থানা পুলিশ ওই রাতে উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জামাল শিকদারের ছেলে ধানসাগর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা রাজু শিকদার এবং রাজৈর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে নাইম ইসলাম নামে দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে ।
ন্যাক্কারজনক এই হামলার ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামে‌ রবিন ঢালির বাড়িতে। ঘটনার পরের দিন (মঙ্গলবার) দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোঃ হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি ভুক্তভোগী পরিবারসহ আতঙ্কিত হিন্দু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তা এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবীন ঢালীর সঙ্গে তিন-চার বছর ধরে একই এলাকার প্রবাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা সোবাহান হাওলাদারের জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলে আসছে। এর জেরে সোবাহন হাওলাদার, তার দুই ছেলে মিরাজ ও আব্দুল্লাহ এবং দুই ভাই সরোয়ার ও দেলোয়ারের নেতৃত্বে স্থানীয় একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের ৫০ থকে ৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র সজ্জিত হইয়া রবীনের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা দা, হাতুড়ি, শাবল, লাঠিসোটা নিয়ে প্রথমে বসত ঘর ভাঙচুর শুরু করে। ঘরের চালা, বেড়াচাটকি ও আসবাবপত্র ভেঙে চুরমার করে ফেলে। এতে বাধা দিলে সন্ত্রাাসীরা রবিনদারের স্ত্রী মা ও অন্যান্য নারী সদস্যদের মারধর করে তারা।
সন্ত্রাসীদের হামলায় আহতরা হলেন, রবীন ঢালীর স্ত্রী সীমা রাণী (৩৫), মা দুলালী রাণী (৭০), নানী বেলকা রাণী (৯০) এবং তার দুই খালা বিমলা রাণী (৬০) ও লীলা রাণী (৬৫)। এদেরকে উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
রবীন ঢালী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেলন, ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। ব্যক্তিগত কাজে পার্শ্ববর্তী মোরেলগঞ্জ উপজেলায় গিয়েছিলাম। এই সুযোগে সোবাহান হাওলাদার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সেবি ও চাঁদাবাজ ভাড়া করে এনে আমার বাড়ি জবরদখলের চেষ্টা করেন। সন্ত্রাসীরা বসতঘরের আসবাবপত্র, মালামাল ভাঙচুর করে দিয়েছে। দুটি ট্রাঙ্কে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও জমির দলিলপত্র লুট করে নিয়ে গেছে।
রবীন ঢালী আরো বললেন, আমি দীর্ঘদিন চট্টগ্রামে গার্মেন্টে কাজ করতাম। সেই ফাঁকে আমার দলিলকৃত জমির মধ্য থেকে ১৫ শতাংশ জমি প্রভাবশালী সোহরাব হাওলাদার তার নামে রেকর্ড করিয়ে নেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়ভাবে বহুবার সালিস বৈঠক হয়। কিন্তু তাতে কোনো সমাধান না হওয়ায় বাগেরহাট আদালতে বাটোয়ারা মামলা করা হয়। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় তারা আমার বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ছুটে এলে তাদের বাধার মুখে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে আমারা চরম আতঙ্কে আছি। সোবাহানের সন্ত্রাসী বাহিনীর কঠোর বিচার এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তার দাবি জানায় রবিন ঢালী সরকারের কাছে।
উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবুল দাস ও সাধারণ সম্পাদক গোপাল কর্মকার বলেন, হিন্দুপাড়ার এই ঘটনাটি সংখ্যালঘুদের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার পাশপাশি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং স্থানীয় বাসিন্দা মহিউদ্দিন বাদল বলেন, হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রবীন ঢালীর বাড়িতে ছুটে যায়। তাদেরকে বাধা দিয়ে অনেকটা ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন এরা কোনো দলের লোক না, এরা সন্ত্রাসী।
এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত ও সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলন মঙ্গলবার দুপুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং এ ধরনের ন্যাকারজনক ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন।
শরণখোলা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. শামিনুল হক বলেন , ঘটনার খবর পেয়ে রবীন ঢালীর বাড়িতে একদল পুলিশ সহ ছুটে যান। তবে সেখানে পুলিশ পৌছানোর আগে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোটা জব্দ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এঘটনায় রবীন ঢালী বাদী হয়ে ২৬জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো বেশ কয়েক জনের নামে একটি মাললা করেছেন। দুই জনকে গ্রপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা