যশোরে ভয়ভীতি দেখিয়ে মাহাবুব হোসেন (৬৫) নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৬ জনকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। গত শুক্রবার গভীর রাতে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার গালিমপুর গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে মাসুদুর রহমান (৩৭), মুনছের আলী মন্ডলের ছেলে তোফাজ্জেল হোসেন তোফা (৪২), মৃত সিদ্দিক রহমানের ছেলে মোবারক হোসেন (৪০), ছলেমানপুর গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে মুকতার হোসেন (৪০), মহেশপুর উপজেলার বজরাপুর এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩২) এবং চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের মৃত জলিলের ছেলে সাকিল হোসেন (২৪)।
পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মেদিনিপুর গ্রামের মৃত বাকিয়ার রহমানের ছেলে মাহাবুব হোসেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার পুরোপাড়া বাজার এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন এবং ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
গত ৬ জুন রাত ৯টার দিকে পুরোপাড়া বাজার থেকে মাসুদুর রহমান ও রাসেল মিয়া নামের দুই যাত্রী যশোর শহরের পালবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে তার ইজিবাইকে ওঠেন। পরে পালবাড়িতে পৌঁছালে অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও দুই যাত্রী গাড়িতে ওঠে। এরপর যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তরা তাকে আব্দুলপুর রেলক্রসিং পার হয়ে হুজুরপাড়ার মাঝামাঝি এলাকায় নিয়ে গিয়ে আচমকা হামলা চালায়।
আক্রমণকারীরা ছুরি দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ ১,২০০ টাকা, একটি মোবাইল ফোন এবং ইজিবাইক ছিনিয়ে নেয়। পরে তাকে মারধর করে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ৮ জুন মাহাবুব হোসেন আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মামলাটি কোতয়ালি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
মামলার পর ডিবি পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে এবং গত শুক্রবার গভীর রাতে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে তাদের যশোর কোতয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রউফ আটক ৬ জনকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।