সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল সংলগ্ন গহীন অরণ্যে বাঘ ও হরিণ শিকারীদের পেতে রাখা ফাঁদে আটকে গুরুতর আহত হওয়া একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার প্রায় ৬ মাসের চিকিৎসা শেষে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছে বলে জানা গেছে। বাঘিনীটিকে গলায় স্যাটেলাইট কলার পরিয়ে পর্যবেক্ষণে রেখে আগামী জুলাই মাসের যেকোনো এক সময় সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে
বনবিভাগ।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল এলাকায় বাঘ হরিণ শিকারী চক্রের পেতে রাখা ছিটকা ফাঁদে আটকে যায় প্রায় ১০ বছর বয়সী বাঘিনীটি। পরে ট্রাঙ্কুলাইজিং বন্দুক দিয়ে অচেতন করে উদ্ধার করা হয়। পরে দেখা যায়, তার সামনের বাঁ পায়ে গুরুতর ক্ষত হয়েছে এবং সেখানে সংক্রমণও দেখা দিয়েছে।
পরে আহত বাঘিনীটিকে খুলনার বয়রা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে বাঘিনীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক, ড্রেসিং ও নিবিড় পরিচর্যায় ধীরে ধীরে তার ক্ষত সেরে ওঠে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বাঘিনীটি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং শারীরিকভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে বাঘিনীটির গতিবিধি ও শিকার সক্ষমতা পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন-এর সহায়তায় তার গলায় স্যাটেলাইট কলার পরানো হবে। নির্দিষ্ট সময় পর এই কলার স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, কলার হাতে পাওয়ার পর আগামী জুলাইয়ের যেকোনো এক সময় বাঘিনীটিকে পুনরায় তার আগের আবাসস্থল চাঁদপাই রেঞ্জের গভীর অরণ্যে অবমুক্ত করা হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এম এ আজিজ বলেন, বাঘিনীটি এখন শারীরিকভাবে সুস্থ এবং নিজে শিকার করার মত সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরো বলেন, সুন্দরবনের বাঘ সাধারণত ১৪ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। সেই হিসেবে প্রায় ১০ বছর বয়সী এই বাঘিনীকে তার স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া যথাযথ সিদ্ধান্ত।