বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা নড়াইল। ১৯৮৪ সালে যশোর জেলা থেকে পৃথক হয়ে নড়াইল জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। প্রায় ৯৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ জেলার উত্তরে মাগুরা, দক্ষিণে বাগেরহাট, পূর্বে গোপালগঞ্জ এবং পশ্চিমে যশোর জেলা অবস্থিত।নড়াইল শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, ইতিহাস, সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় অবদানের জন্যও দেশজুড়ে সুপরিচিত।
ঐতিহাসিকভাবে নড়াইল জমিদারদের জনপদ হিসেবে পরিচিত। ব্রিটিশ আমলে নড়াইল জমিদার পরিবার শিক্ষা, সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক নানা প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল। চিত্রা নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনবসতি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় নড়াইলের অসংখ্য বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেন। জেলার বিভিন্ন স্থানে আজও সেই স্মৃতি বহন করে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মারক।
নড়াইলের লোকসংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাট-বাজার, পল্লীগীতি, যাত্রাপালা, লাঠিখেলা, নৌকাবাইচ এবং বিভিন্ন গ্রামীণ উৎসব আজও এ জেলার সংস্কৃতিকে জীবন্ত করে রেখেছে।চিত্রা ও নবগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে ওঠা জনজীবন কৃষিনির্ভর হলেও শিল্প-সংস্কৃতির চর্চাও সমানভাবে সমৃদ্ধ।নড়াইলের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে—নড়াইল জমিদার বাড়ি , চিত্রা নদীর মনোরম তীর , কালিয়া উপজেলার , ঐতিহাসিক বিভিন্ন স্থাপনা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ,গ্রামীণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বিল ও জলাভূমি
বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করতে নড়াইলের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ জেলার সন্তান মাশরাফি বিন মর্তুজা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে নড়াইলকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করেছেন। তাঁর উদ্যোগে জেলার ক্রীড়াঙ্গনেও এসেছে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য।
নড়াইলের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কৃষি। ধান, পাট, মাছ চাষ, সবজি এবং বিভিন্ন ফলের উৎপাদনে জেলার কৃষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা ও হস্তশিল্পও স্থানীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে।ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধের গৌরব এবং ক্রীড়াঙ্গনের সাফল্য—সব মিলিয়ে নড়াইল বাংলাদেশের একটি অনন্য জেলা। অতীতের ঐতিহ্য ধারণ করে আধুনিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলা নড়াইল আজও দেশের গর্বের এক জনপদ