• শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জৈন্তাপুরে চিকিৎসাধীন দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ইউএনও সুনন্দা রায়ের আর্থিক অনুদান যশোরে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসায়ীকে হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন হরমুজ সংকটে দেশের খাদ্য উৎপাদনে বড় ঝুঁকির আশঙ্কা ডব্লিউএফপির বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শরণখোলায় প্রাইভেট ক্লিনিকের বাথরুম থেকে নার্সের মরদেহ  উদ্ধার  সিলেটে র‍্যাব-৯ ও বিজিবির যৌথ অভিযানে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য উদ্ধার জৈন্তাপুরে পুলিশের পৃথক অভিযানে ৭৮০ কেজি ভারতীয় জিরা ও ৬৫ পিস ইয়াবা সহ আটক ২ সাধারণ মানুষের সেবা করতে চান রফিক বাঘা নেছারাবাদে শিক্ষা প্রকল্পে ১৫ লক্ষাধিক টাকার কাজে নয় ছয়, এলজিইডির প্রত্যয়ন নিয়েও প্রশ্ন মারা গেলেন দক্ষিণী খলনায়ক এসআই রাজশেখরন

বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক / ৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নতুন ও দূরদর্শী বিএনপি সরকার চায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে এসে নতুন বিনিয়োগ করুন, উদ্যোগ গ্রহণ করুন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুন।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক ‘এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তা কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী—বাংলাদেশে যে কেউ মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার তাদের পাশে থাকবে। সময়োপযোগী নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা করা হবে। এটি শুধু আশ্বাস নয়, সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।তিনি বলেন, সম্মেলনে দেশি-বিদেশি করপোরেটপ্রধান, সফল বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিদেশি বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে বিনিয়োগকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।নিজের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি নিজেও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন, কোনো ব্যবসার সফলতা শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে না। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি সহায়ক সরকারি নীতি ও কার্যকর ব্যবসায়িক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রয়েছে দ্রুত বিকাশমান বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও পরিশ্রমী মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনগণের সমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এসব শক্তি বাংলাদেশকে টেকসই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা। নির্বাচনি ইশতেহারে সেই অর্থনৈতিক রূপান্তরের সুস্পষ্ট রূপরেখা রয়েছে।বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শুধু বিনিয়োগ নয়, বরং বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের পাঁচ মাসের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগেই অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা থেকে সরকার বিনিয়োগবান্ধব সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করেছে।তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীদের প্রধান চাহিদা ছিল আইনি সুরক্ষা জোরদার, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজ কর ব্যবস্থা, মুনাফা নির্বিঘ্নে নিজ দেশে পাঠানোর সুযোগ, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং উন্নত অবকাঠামো। সরকার ইতোমধ্যে এসব ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগ সুরক্ষা, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি, কর ও ভ্যাট প্রশাসন সহজীকরণ এবং মুনাফা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সহজ করছে। পাশাপাশি পুঁজিবাজার শক্তিশালী করা, স্টার্টআপে উৎসাহ দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তা উন্নয়নে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এ লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, তৈরি পোশাক খাতের বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর নির্ভর করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা