• বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কালীগঞ্জে মিথ্যা যৌন হয়রানির অভিযোগে মবসৃষ্টি করে শিক্ষককে গণপিটানি  শরণখোলায় তিন মাদক মামলার আসামি মোস্তফা ভান্ডারী গাঁজা  সহ আটক  ‘সাশ্রয়ী দামে স্মার্টফোন মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার’ জৈন্তাপুরে টাস্কফোর্সের অভিযান, ৭১১৯ ঘনফুট বালু জব্দ র‌্যাব বিলুপ্ত করে ‘এসআরবি আইন-২০২৬’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন জৈন্তাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন, পেলোডার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নেছারাবাদে সুপারি চারা খাওয়ার অভিযোগে দুই ছাগলকে হত্যা জৈন্তাপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন, দুই মৎস্যচাষী পেলেন বিশেষ সম্মাননা জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে শৈলকুপায় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ বাঘায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদ্বোধন, দুই সেরা চাষিকে সম্মাননা

কালীগঞ্জে মিথ্যা যৌন হয়রানির অভিযোগে মবসৃষ্টি করে শিক্ষককে গণপিটানি 

সোহেল রানা ঝিনাইদহ প্রতিনিধি / ৪৭ Time View
Update : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহ আলমকে মারধরের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। শিক্ষকের পরিবারের অভিযোগ, স্কুলের পুকুর লিজের টাকা দেয়া নিয়ে স্থানীয় এক সাবেক ইউপি সদস্যের সঙ্গে বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তবে সাবেক ইউপি সদস্য ইলিয়াস মোল্লা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার বড় বায়শা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি স্কুলের অফিস কক্ষে ঢুকে শিক্ষক শাহ আলমকে মারধর করেন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শিক্ষকের পরিবারের অভিযোগ, স্কুলের পুকুর লিজের টাকা নিয়ে রামচন্দ্রপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ইলিয়াস মোল্লার সঙ্গে শাহ আলমের বিরোধ চলছিল। গত দুই সপ্তাহ ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তার হুমকিও দেয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে হঠাৎ এক চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে তার ওপর হামলা করা হয়।
ঘটনার পর ছাত্রীর হাতে লেখা বলে দাবি করা একটি অভিযোগপত্র উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেয়া হয়। তবে অভিযোগপত্রটিতে ছাত্রীর বা তার পক্ষের কারও স্বাক্ষর ছিল না। এমনকি ছাত্রীর নিজের হাতে এটি লেখা কিনা, সে বিষয়েও নিশ্চিত নন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে শিক্ষকের বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেয়া, টাকা দেয়া এবং ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা লিখে দেখানোর অভিযোগ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি শিক্ষককে অবরুদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। স্থানীয়দের কাছে লিখিত অভিযোগপত্র চাইলে তারা কিছুক্ষণ পর একটি সাদা কাগজে হাতে লেখা অভিযোগপত্র এনে দেন। তবে সেটি শিক্ষার্থীর নিজের হাতে লেখা কিনা, তিনি নিশ্চিত নন। শিক্ষার্থীও তার সামনে এসে কোনো অভিযোগ করেনি।
অভিযোগপত্রটি কে লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রীর চাচা সৌরভ সরকার বলেন, ‘আমার ভাতিজির কথা হয়তো অন্য কেউ লিখে দিয়েছে। তবে কে লিখেছে, জানি না।
অন্যদিকে শিক্ষকের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন স্কুলের আশপাশের অনেকেই বিষয়টি জানতেন না। তাদের দাবি, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ইলিয়াস মোল্লা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে আগে থেকেই সহকারী শিক্ষক শাহ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা জানান। এর কিছুক্ষণ পরই স্থানীয় কয়েকজন স্কুলে গিয়ে শিক্ষককে মারধর করেন।
শিক্ষকের স্ত্রী তানিয়া সুলতানা অভিযোগ করেন, স্কুলের পুকুরের লিজের টাকা চেয়েছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য ইলিয়াস মোল্লা। তার স্বামী স্কুলের টাকা অন্য কাউকে না দেয়ার পরামর্শ দেয়ায় দুই সপ্তাহ ধরে বিরোধ চলছিল। তার দাবি, ওই বিরোধের জেরেই সৌরভ সরকারের নেতৃত্বে ও ইলিয়াস মোল্লার ইন্ধনে শিক্ষককে মারধর করা হয় এবং পরে ঘটনাটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ হিসেবে সামনে আনা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য ইলিয়াস মোল্লা। তিনি বলেন, শিক্ষক শাহ আলমকে তিনি চেনেনই না এবং তার সঙ্গে কখনো কথা হয়নি। স্কুলের পুকুর লিজের টাকা নেয়ার প্রশ্নই আসে না। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদ জানান, ইলিয়াস মোল্লা তার চাচা শ্বশুর। শিক্ষক শাহ আলমের সঙ্গে ইলিয়াস মোল্লার পূর্ববিরোধের বিষয়ে তিনি অবগত নন। পুকুর লিজের টাকা নিয়ে আগে কোনো ঘটনা ঘটেছিল কিনা, সেটিও তার জানা নেই।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ছাত্রীর বাড়ি থেকে ফিরে স্কুলে প্রবেশের পরপরই কয়েকজন ব্যক্তি অফিসে ঢুকে শাহ আলমের ওপর হামলা করেন। কেন তারা এমন হামলা চালিয়েছেন, তা তিনি জানেন না।
ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। ইউএনও জানান, ১০-১২ জন ব্যক্তি শিক্ষককে মারধর করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয়দের কাছ থেকে ছাত্রীর নিপীড়নের অভিযোগও পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি কবির হোসেন জানান, স্থানীয়রা শিক্ষককে বিদ্যালয়ে আটকে রাখার পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার ইসিজি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেখেছে।
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, ছাত্রীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি স্কুলের অফিসে ঢুকে শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলে সেটিও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারণ, আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার অধিকার কারও নেই।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের অনেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা