
মিজানুর রহমান,
তিনযুগ পর বাবা-ভাইয়ের মতো হত্যার শিকার হতে হয়েছে যশোরের যুবলীগ নেতা রেজাউল ইসলামকে। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের দৌলতদিহি গ্রামে এ যুবলীগ নেতাকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
নিহত রেজাউল ইসলাম দৌলতদিহির গোলাম তরফদারের ছেলে। তিন যুগ আগে প্রতিপক্ষ তার বাবা ও ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। এবার তাকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হলো।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা রেজাউল ইসলামকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় বাড়ির পাশে। পরে তাকে বাড়ির পাশেই এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্ত্রী শিউলি বেগম জানান, রাত ১২টার দিকে তিনি ও তার স্বামী রেজাউল ইসলাম বাড়ির ছাদে ছিলেন। এ সময় একটা ফোনে রেজাউলকে বাইরে চা খাওয়ার জন্য কে বা কারা ডাকেন।
তিনি আরো জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছু সময় পর তিনি জানতে পারেন তার স্বামীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, গ্রামের মানুষ এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত।
স্থানীয়রা জানান, নিহত রেজাউল ইসলাম যুবলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তার নামে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বিগত দিনে রেজাউল এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। নিহতের ভাগনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক কোন্দলে তার মামাকে খুন করা হয়েছে।
স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, নিহত রেজাউল ইসলাম কিলার মকলেছুর রহমান নান্নুর সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন। তাকে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে জানে এলাকার লোক। তার নামে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি তিনি সন্ত্রাসের পথ ছেড়ে দিয়ে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে কী কারণে রেজাউল খুন হয়েছেন তা নিয়ে এলাকায় চলছে নানান গুঞ্জন।
১৯৮৯ সালে রেজাউলের বাবা গোলাম তরফদার ও ভাই ইনছার তরফদারকে একটি ঘটনায় দৌলতদিহি গ্রামে পিটিয়ে হত্যা করে একটি পক্ষ।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসনাত বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
Leave a Reply