বাজারে মাছের ঝুড়ি, বরফ আর পানির সঙ্গে জমে থাকে অসংখ্য মাছের আঁশ। একসময় যেগুলো ছিল একেবারেই ফেলনা, এখন সেগুলোই রোজগারের নতুন উপায়। মাছ কাটার শ্রমিকদের জন্য এই আঁশ যেন ‘বোনাস পণ্য’।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ভোর থেকে শুরু হয় মাছ কাটার তুমুল ব্যস্ততা। প্রতিদিনই এখানে হাজার হাজার কেজি মাছ বিক্রি হয়। সঙ্গে চলে মাছ কাটার ব্যস্ততা। ক্রেতাদের জন্য মাছ পরিষ্কার করতে গিয়ে প্রচুর আঁশ জমে।
মাছ কাটার সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকরা আঁশ আলাদা করে সংগ্রহ করেন এবং কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা দরে বিক্রি করেন নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছে। শুকনো অবস্থায় এ আঁশের দাম ওঠে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা পর্যন্ত।
কারওয়ান বাজারের মাছ কাটা শ্রমিক মো. দিপু বলেন, ‘আগে মাছ কাটার পর আঁশগুলো ঝুড়ি ভর্তি হয়ে যেত, পরিষ্কার করতে হিমশিম খেতে হতো। পরে কিছু ব্যবসায়ী এসে জানালেন, এগুলোর দাম আছে। এখন প্রতিদিন আলাদা করে জমাই, শেষে কেজি হিসেবে বিক্রি করে দিই। এতে দিনে বাড়তি ২০০-৩০০ টাকা আয় হয়ে যায়।’
মাছের আশ কী কী কাজে লাগে?
মাছের আঁশ মূলত কোলাজেন ও কেরাটিন জাতীয় প্রোটিন দিয়ে তৈরি। এগুলো শক্ত কিন্তু নমনীয়।
মাছের আঁশ দিয়ে যা তৈরি হয়-
জেলাটিন – মাছের আঁশ থেকে কোলাজেন সংগ্রহ করে জেলাটিন তৈরি করা যায়; যা খাদ্য শিল্পে, কসমেটিকস ও ওষুধে ব্যবহৃত হয়।
কোলাজেন পাউডার – একটি সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ করে ত্বক, হাড়, চুলের যত্নে ব্যবহার হয়।
গহনা ও অলংকার – বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত করে মাছের আঁশ থেকে মুক্তার মতো ঝলমলে অলংকার তৈরি করা যায়।
বায়োপ্লাস্টিক – পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক তৈরির পরীক্ষায় মাছের আঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে।
Leave a Reply