• রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন

ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

স্বাধীন বাংলানিউজ: / ৯ Time View
Update : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

ইউরোপের মাটিতে প্রথমবারের মতো ম্যাচ খেলেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। সেরাভালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে পরাজিত করে দেশের ফুটবলে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

এই জয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো ইউরোপীয় দেশকে হারানোর কৃতিত্ব অর্জন করল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলির অধীনে অভিষেক ম্যাচেই স্মরণীয় জয় তুলে নিল জাতীয় দল।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে সান মারিনোর অবস্থান ২১১তম এবং বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম হলেও ইউরোপের পরিবেশ ও স্বাগতিক সমর্থকদের উপস্থিতি ম্যাচটিকে কঠিন চ্যালেঞ্জে পরিণত করেছিল। তবে গ্যালারিতে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির সমর্থন দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। ১৭তম মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণ চালায় বাংলাদেশ। এর দুই মিনিট পরই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। ডান প্রান্ত থেকে শেখ মোরছালিনের নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ান তপু বর্মণ।

এই গোলের মাধ্যমে ইউরোপের মাটিতে কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম গোলের রেকর্ডও গড়ে ওঠে।

বাংলাদেশের লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩১তম মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে নিকোলাস জিকোপেত্তি গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। প্রথমার্ধের শেষ দিকে সাদ উদ্দিন গোল করার ভালো সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে কৌশলগত পরিবর্তন আনেন প্রধান কোচ থমাস ডুলি। একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন এনে দলকে আরও আক্রমণাত্মক রূপ দেন তিনি। মাঠে নেমে শমিত সোমও আক্রমণভাগে নতুন গতি ও প্রাণ সঞ্চার করেন।

বাংলাদেশ ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় এবং একের পর এক আক্রমণে সান মারিনোর রক্ষণভাগকে চাপে রাখে।

ম্যাচের শেষ দিকে বাংলাদেশের চাপ আরও বাড়তে থাকে। অবশেষে ৮৬তম মিনিটে আবারও নায়ক হয়ে ওঠেন তপু বর্মণ। হামজা চৌধুরীর নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে বিশ্বনাথ ঘোষের ভলি হয়ে আসা বল দারুণ হেডে জালে পাঠিয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সেই লিড ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। তপু বর্মণের জোড়া গোল, হামজা চৌধুরীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং কোচ থমাস ডুলির সফল কৌশলে ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় এক রাত উপহার পেল বাংলাদেশ।

সান মারিনোর বিপক্ষে এই জয় শুধু একটি প্রীতি ম্যাচের সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইউরোপের মাটিতে প্রথম ম্যাচেই জয় এবং প্রথমবারের মতো কোনো ইউরোপীয় দেশকে হারানোর অর্জন ভবিষ্যতে জাতীয় দলের আত্মবিশ্বাস ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা