
নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে আসামি মামার পরিবর্তে ভাগ্নে কারাগারে যাওয়ার ঘটনায় সেই মামা-ভাগ্নের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। যশোরের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোজাফফর হোসেন বৃহস্পতিবার সকালে কোতয়ালি থানায় মামলাটি করেন।
আসামিরা হলো, সদর উপজেলার বড় ভেকুটিয়া গ্রামের মন্টুর ছেলে হাসান (৪৪) ও ভাগ্নে একই গ্রামের জমসেদ আলীর ছেলে শামীম আহমেদ (২৭)।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, যশোর আর্মি মেডিকেলের এক শিক্ষার্থী দম্পতির বাড়িতে গিয়ে চাঁদাবাজি, হামলা, মারপিট ও লুটের ঘটনায় ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর ৭জনের নামে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলার ৫ নম্বর আসামি হলো হাসান। গত ২১ অক্টোবর বেলা ১২টার দিকে আসামি শামীম আহমেদ তার নিজের নাম গোপন রেখে হাসান পরিচয় দিয়ে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লষ্কর সোহেল রানার আদালতে জামিন প্রার্থনা করেন। বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে শামীমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সন্ধ্যার দিকে শামীমকে কোর্ট পুলিশ কারাগারে নিয়ে যান। সেখানে নিয়মিত পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয় আসামিদের। এরপর কারাগারে রাখা হয়। পরীক্ষা করার সময় শামীমের কাছে কারাকর্তৃপক্ষ নাম ঠিকানা যাচাই করছিলেন। সে সময় শামীম তার নাম হাসান বলে জানায়। এবং তার কথাবার্তা অসংলগ্ন হলে সন্দেহ হয়। পরে কারাকর্তৃপক্ষ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার ফিঙ্গার প্রিন্ট নেয়। সে সময় কর্তৃপক্ষ জানতে পারে হাসান বলে নিজেকে যে পরিচয় দিচ্ছে সে আসলে হাসান নয়। তার নাম শামীম। মূলত আসামি হাসানের ভাগ্নে। তার ছোট মামা হাসান বর্তমানে বিদেশে আবস্থান করছেন। তার পরিবর্তে তার ভাগ্নে শামীম আদালতে হাসান পরিচয় দিয়ে কারাগারে যেতে চায়। এরপর শামীম আসল ঘটনা স্বীকার করেন। এই বিষয়টি সিনিয়র জেল সুপার আবিদ আহমেদ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কাছে লিখিতভাবে জানান। জেল সুপারের লিখিত অভিযোগ হাতে পেয়েই প্রতারণা ও জালজালিয়াতির অভিযোগে মামলা নথিভূক্ত করে মামা হাসান ও ভাগ্নে শামীমের বিরুদ্ধে।
আদালতে সূত্রে জানগেছে, নতুন জালিয়াতির মামলায় শুক্রবার শামীমকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে। এরপর তার বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
Leave a Reply