• বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পর্যটকদের জাহাজে বনদস্যুর হামলার চেষ্টা বনরক্ষীদের গুলির মুখে পালিয়ে গেল দস্যুরা  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসছে টানা ১০ দিনের ছুটি শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে : দীনেশ ত্রিবেদী যশোরে মহিলা লীগ নেত্রী সুন্দরীর পর এবার ছেলে যুবলীগ কর্মী রাজন আটক উৎকণ্ঠায় জেলেদের পরিবার সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত ২১ জেলে ৭ দিনেও উদ্ধার হয়নি আজ দেশে আসছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সিলেট সীমান্তে ১৮ লাখ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক নেছারাবাদে বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেতা গ্রেফতার শরণখোলায় ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট শাখা থেকে গ্রাহকের তিন কোটি টাকা নিয়ে ম্যানেজার উধাও  নড়াইলে ষাঁড়ের লড়াই কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

শরণখোলায় ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট শাখা থেকে গ্রাহকের তিন কোটি টাকা নিয়ে ম্যানেজার উধাও 

আ: মালেক রেজা শরণখোলা বাগেরহাট থেকে: / ১১৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালি ইউনিয়নের তাফালবাড়ি বাজারে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট  শাখা থেকে শতাধিক গ্রাহকের বিভিন্ন সময় জমিয়ে রাখা প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে ওমর ফারুক রাজু নামে প্রতারক এক ম্যানেজার। এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ওই সকল গ্রাহকের পরিবারের মধ্যে  কান্নার রোল বইতে শুরু করেছে। কেউ কেউ আবার আত্মহত্যা করবে না বিষ খাবে এ নিয়ে হতাশার মধ্যে পড়েছে। অন্যদিকে সাত লক্ষ টাকা জমা রাখা তাফালবাড়ি বাজারের বাসিন্দা রাসেল মীর জানায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ওই প্রতারক হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নেপালে পাড়ি জমিয়েছে।
অন্যদিকে দশ বারো বছর প্রবাস থাকা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শাহ আলম মিয়া প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ওই ব্যাংকে জমা দিয়ে এখন পাগলের মত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তার কাছে ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি ছাড়া আর কিছুই নাই।
 ভূক্তভোগীর পরিবার এবং এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা মাস্টার শাহ আলমের পুত্র ওমর ফারুক ওরফে রাজু ২০২১ সাল থেকে তাফালবাড়ি বাজারে ডাচ বাংলা ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখা তার বাবার নামে মালিক হিসেবে ডাচ বাংলা ব্যাংকের সাথে সাথে চুক্তিবদ্ধ হন।
ওই এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ পরিবারের পুরুষ- মহিলারা তাদের সঞ্চিত অর্থ কেউ পাঁচ বছর কেউ সাত বছরের জন্য ১ লাখ টাকা থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ডিপোজিট করে রাখেন। গ্রাহকের তথ্যমতে তারা তিন কোটি টাকার অধিক ওই ব্যাংকে তারা জমা রেখেছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসের ১৮/১৯ তারিখ থেকে তাকে ব্যাংকে কম আসতে দেখে অনেক গ্রাহকের সন্দেহ হয়। তাফালবাড়ী বাজারের রড সিমেন্টের ব্যবসায়ী শেখ সজল তার বাবা মায়ের নামে নামে রাখা প্রায় ৭ লাখ টাকার ৮ বছরের জন্য ডিপোজিট করেন হঠাৎ একাউন্ট চেক করতে যেয়ে তিনি এক টাকাও না দেখে বিমর্ষ হয়ে পড়েন।
সজলের মত বিউটি আক্তার ১০ লাখ, রহমান খলিফা ১৫ লাখ, লিমন মুন্সি ৭ লাখ, ওমর সরদার ১৪ লাখ, আলী সরদার ৮ লাখ, জীবন ৩  লাখ, ইমাম হোসেন ১ লাখ, রিগান খান ৬ লাখ ৫০ হাজার, শফিকুল ১ লাখ, রায়হান ২ লাখ, মামুন মীর ৭ লাখ, রিয়াদুল খান ৩  লাখ, আমির আলী ২ লাখ ও জামাল খান, ৭ লাখ। এভাবে শতাধিক লোকের  তিন কোটি টাকার অধিক প্রতারণার মাধ্যমে জালিয়াতি করে লোপাট করে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে প্রতারক ওমর ফারুক ওরফে রাজু। এ ব্যাপারে অনেক গ্রাহক থানায় অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাজুর বাবা শাহ আলম মাস্টারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ফোনটি রিসিভ না করায়  তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এ ব্যাপারে ডাচ বাংলা ব্যাংকের খুলনার রিজওনাল ম্যানেজার মোহাম্মদ ফরিদ আহমেদ বলেন, তারা বিষয়টি বাগেরহাট ব্যাংকের ম্যানেজারের মাধ্যমে জানতে পেরে তাফালবাড়ি বাজারের এজেন্ট শাখায় একটি তদন্ত করেছে যার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৫ লাখ টাকা জমা হওয়ার কাগজপত্র পেয়েছেন এবং ওই ম্যানেজারের গ্রাহকের পার্সোনাল ভাবে অর্থ আত্মসাৎ এর তথ্য পাওয়া গেছে। তারা ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। তবে এজেন্ট ব্যাংকের ম্যানেজার ওমর ফারুক ওরফে রাজু বিদেশে চলে যাওয়ায় তার কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা