পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের নারিকেলবাড়িয়া, আমবাড়ীয়া, ভদ্র ও ভাঙ্গা এলাকা থেকে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত ২১ জেলেকে গত ৭ দিনেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জিম্মি জেলেরা কোথায় এবং কী অবস্থায় আছেন, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এতে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন অপহৃত জেলেদের পরিবার ও মহাজনরা। আতঙ্কে রয়েছেন সুন্দরবনে অবস্থানরত জেলেরা না জানি কখন তাদের ভাগ্য এরকম ঘটনা ঘটে।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সূত্র জানিয়েছে, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। সুন্দরবনের আকাশে আধুনিক ড্রোন উড়িয়ে জেলে ও দস্যুদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নৌপথে কোস্ট গার্ডের একাধিক দল চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। অন্যদিকে জেলেদের নিরাপত্তায় টহল জোরদার করেছে বন বিভাগ।
উল্লেখ্য শুক্র ও শনিবার (২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের নারকেলবাড়িয়া, আমরাড়িয়া, ভদ্রা ও ভাঙ্গা এলাকা থেকে সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু মজনু, করিম শরীফ ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা ২১ জেলেকে মোটা অংকের মুক্তিপনে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ সময় জেলেদের একটি ট্রলার, পাঁচটি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামালও লুট করে নিয়ে যায় দস্যুরা। অপহরণের পর থেকে কোনো জেলে বা মহাজন দস্যুদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। পরিচয় প্রকাশ পেলে পেশা ও জীবনের জন্য বড় ধরনের হুমকি আসতে পারে, এমন আশঙ্কায় তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপহৃত জেলেদের একাধিক মহাজন জানান, জেলেদের মুক্ত করতে তারা দস্যুদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। তবে মুক্তিপণ হিসেবে কত টাকা দাবি করা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে তা জানাতে রাজি হয়নি তারা। তবে দস্যুদের সঙ্গে মুক্তিপণ নিয়ে দর-কষাকষি চলছে। কাঙ্ক্ষিত মুক্তিপণ পেলেই জেলেদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দস্যুরা। এ ঘটনায় অপহৃত জেলা পরিবারের মধ্যে দিন দিন উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে। অপহরণের ঘটনায় সুন্দরবনের সাধারণ
জেলেরাও নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। তারা সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। নাম প্রকাশ না করা শর্তে কোষ্টগার্ডের এক কর্মকর্তা বলেন ইতোমধ্যে বনদস্যদের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য দলনেতা আগ্নেয়াস্ত্র সহ আত্মসমর্পণ করলেও আবারো নতুন করে অপহরণের বিষয়টি তাদেরকে কিছুটা বিস্মিত করেছে। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, অপহৃত জেলেদের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়ন। সুন্দরবনে অবস্থানরত জেলেদের রাতে
দলবদ্ধভাবে এবং সংশ্লিষ্ট বন অফিসের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া সব স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের জেলেদের নিরাপত্তায় টহল বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহাবুব হোসেন বললেন, অপহৃত ২১ জেলেকে উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে। দস্যুদের অবস্থান শনাক্তে আধুনিক ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নৌপথেও চিরুনি অভিযান চলছে।’ দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলেদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে তিনি আশ্বস্ত করেন। সুন্দরবন খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ ইমরান আহমেদ বলেন, জেলেদের উদ্ধারের সহযোগিতা করার জন্য কোষ্টগার্ড ও র্যাবের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। শীঘ্রই ও জেলেদের উদ্ধার করা সম্ভব হলে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।