• সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বেনাপোলে টুংটাং শব্দে মুখরিত কামারপল্লী সুজন বন্ধু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নির্বাচিত হলেন মেহেরপুরের ফিরোজ আহম্মেদ পলাশ দেশের ৬০% মানুষের অগ্নিদগ্ধদের সেবাদানে প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান নেই ঈদে টানা ৭ দিন বন্ধ থাকবে বেনাপোল দিয়়ে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দরে কার্যক্রম। দামুড়হুড়ায় বিজিবির অভিযান সোয়া কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার, আটক-১ ঝিনাইদহে ছাত্রদলের মামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা গ্রেফতার ঝিনাইদহে স্বামীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্ত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ ‎ গাংনী সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ভারতীয় মদ ও বিপুল পরিমাণ ট্যাবলেট-পাতার বিড়ি উদ্ধার যশোর সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ নিহত ৩, চালক আটক যশোর ঝিকরগাছায় মিম হত্যা মামলায় ৫ জন আটক

দেশের ৬০% মানুষের অগ্নিদগ্ধদের সেবাদানে প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান নেই

স্বাধীন বাংলানিউজ: / ৫ Time View
Update : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

খুলনা বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন নীতিমালা থাকলেও বাস্তব প্রস্তুতি এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে রয়েছে আকাশ-পাতাল ব্যবধান । বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ড ও বহুমাত্রিক আঘাতজনিত (বার্ন ও পলিট্রমা) জরুরি পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার এক মারাত্মক ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে । রবিবার খুলনা প্রেসক্লাব কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয় ।
বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)-এর সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে খুলনার ‘CMN & Basu Health Research Center’ কর্তৃক পরিচালিত একটি মিশ্র পদ্ধতির গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে । “বাংলাদেশে গণদগ্ধ ও বহুমাত্রিক আঘাতজনিত জরুরি অবস্থার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আজ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় । সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন এর প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর এবং সেন্টারের প্রোগ্রাম হেড অধ্যাপক ডা. বঙ্গ কমল বসু । তিনি জানান, ঢাকা ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন, মোংলা, সাভার এবং আশুলিয়ার মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পাঞ্চল থেকে এই গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ফার্স্ট এইড (প্রাথমিক চিকিৎসা) প্রশিক্ষণ নেই । এছাড়া ৬২ শতাংশের বেশি মানুষ দগ্ধ রোগী পরিবহনের সময় রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে অবগত নন । অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, মানুষের মাঝে এখনো পুড়ে যাওয়া স্থানে টুথপেস্ট, তেল বা বরফ লাগানোর মতো ক্ষতিকর প্রথাগত অপচিকিৎসার ধারণা বিদ্যমান রয়েছে । একই সাথে শ্বাসনালি দগ্ধতা প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক করণীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অঞখঝ গাইডলাইন অনুযায়ী রোগী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অধিকাংশ উত্তরদাতার ধারণা অত্যন্ত সীমিত, যা জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে ।
পরিসংখ্যানগতভাবে দেখা গেছে যে, কাগজে-কলমে প্রস্তুতি থাকলেও সাধারণ মানুষের কমিউনিটি প্রস্তুতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে । এমনকি সরকারি উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও প্রচারের অভাবে ফায়ার সার্ভিসের জরুরি হটলাইন নম্বর ‘১০২’ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা প্রায় শূন্যের কোঠায় । গবেষণার প্রিন্সিপাল কম্পোনেন্ট অ্যানালাইসিস দেখাচ্ছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো কমিউনিটি পর্যায়ের সামাজিক সক্ষমতার অভাব, যা সামগ্রিক সমস্যার মধ্যে সর্বোচ্চ ২৭.২ শতাংশ গুরুত্ব বহন করে । এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালের ১১.৪% এবং সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ৫.৮% জরুরি চিকিৎসা সেবা দানে সক্ষম। যা বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা বিশেষায়িত বার্ন ও ট্রমা সেবার সংকটকে নির্দেশ করে ।
বিভিন্ন উদ্ধারকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং তথ্য আদান-প্রদানে বিলম্বের কারণে রোগী স্থানান্তর ও দ্রুত চিকিৎসা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে । এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য গবেষকেরা Comprehensive Burn-Polytrauma Disaster Preparedness and Emergency Response (CBPDPER) মডেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে জোর সুপারিশ জানিয়েছেন । সুপারিশমালার মধ্যে রয়েছে— স্থানীয় পর্যায়ে শিল্পাঞ্চল ও হাসপাতালের সক্ষমতা চিহ্নিত করে মানচিত্র (Hayard Mapping) তৈরি করা , সড়কে ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সের নিরবচ্ছিন্ন চলাচলের জন্য ‘গ্রিন করিডোর’ করা এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন করা । এছাড়াও সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলা পর্যায়ে অংশীজনদের নিয়ে “CBPDPERসমন্বয় কমিটি” গঠন , হাসপাতালগুলোতে ২৪ ঘণ্টা ইমার্জেন্সি রেসপন্স ইউনিট শক্তিশালী করা , স্ট্যান্ডার্ড ট্রায়াজ সিস্টেম চালুকরণ এবং স্কুল, কলেজ ও শিল্পাঞ্চলে নিয়মিত ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ ও অগ্নি মহড়া (Fire Drill) বাধ্যতামূলক করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে । বক্তারা বলেন, দ্রুত নগরায়ন ও শিল্পায়নের ফলে দেশে অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে, তাই এই সুপারিশসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করে জাতীয় নীতিনির্ধারণে পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা