বিধবাকে কু-প্রস্তাব, স্থানীয় মাতব্বরের নামে থানায় অভিযোগ
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) সংবাদদাতাঃ
/ ১৩
Time View
Update :
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
Share
স্বামী মারা গেছেন পাঁচ বছর পূর্বে। ঘরে ১২ বছর বয়সী মেয়ে ও ৫ বছর বয়সী ছোট ছেলে। স্বজনের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগিতায় দুই সন্তানকে নিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিন কাটে ৩২ বছর বয়সী বিধবা নারীর। এরই মধ্যে এক প্রতিবেশী সম্পর্কে ভাসুর ও স্থানীয় মাতবরের বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাব, অর্থের প্রলোভন দেখানো এবং মধ্যরাতে ঘরের পেছনের দরজা খোলা রাখার নির্দেশ দেও য়ার অভিযোগ তুলেছেন বিধবা ওই নারী । এ ঘটনায় নিজের ও দুই সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন ওই নারী।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে নেছারাবাদ থানায় বিচার চেয়ে মাতুব্বরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। অভিযুক্ত মো. আবুল কালাম (৫২) পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বিন্না গ্রামের মৃত আঃ মজিদ মিয়ার ছেলে। এলাকায় তিনি মাতবর হিসেবে পরিচিত বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় দুই সন্তানকে নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি। গত দুই মাস ধরে আবুল কালাম বিভিন্ন সময়ে তাঁর বাড়িতে গিয়ে কুপ্রস্তাব দিতেন। সাংসারিকভাবে সহযোগিতার কথা বলে অর্থের প্রলোভন দেখানোর পাশাপাশি রাতে বাড়িতে আসতে চাওয়ার অভিযোগও করেছেন ওই নারী। প্রস্তাবে রাজি না হলে সামাজিকভাবে হেয় করা ও মানসম্মানের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ তাঁর।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ভুক্তভোগী ওই নারী বাড়িতে রান্না করছিলেন। এ সময় আবুল কালাম বিধবা ও নারীর ঘরে গিয়ে তাঁকে ডেকে হাতে ১০০ টাকার একটি নোট দিয়ে বলেন, রাত ১২টার দিকে তিনি আসবেন, তাই ঘরের পেছনের দরজা খোলা রাখা হয়। ওই নারী টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্ত তাঁর হাত ধরে টানাটানি করেন এবং জোর করে টাকা দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই দিন দিবাগত রাত ১২টার পর অভিযুক্ত তাঁর বসতঘরের চারপাশে ঘোরাঘুরি করেন, তাঁকে ডাকাডাকি করেন এবং বেড়া ও দরজায় টাকা-টাকি করেন। ভয়ে তিনি দরজা খোলেননি। পরে শ্বশুরকে ফোন করে ডাকলে তিনি লোকজন আসার বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্ত চলে যান বলে দাবি করেন ওই নারী।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী বিধবা ওই নারী বলেন, আমার স্বামী নেই, ছোট দুটি সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাই। ভয়ে এত দিন মুখ খুলিনি। আমি ও আমার সন্তানরা নিরাপদে বাঁচতে চাই। একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি যদি এভাবে হয়রানি করেন, তাহলে আমরা কার কাছে বিচার চাইব?
ভুক্তভোগীর শ্বশুর মো. হানিফ মিয়া জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পুত্রবধূর ফোন পেয়ে বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাবুল মিয়াকে ঘটনাটি জানান। তাঁর ভাষ্য, তাঁরা অসহায় মানুষ; এ ঘটনায় পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাবুল মিয়া বলেন, ওই নারী ও তাঁর শ্বশুর তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে তিনি তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ঘটনা শুনেছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেও এ ধরনের অভিযোগ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল কালাম। তাঁর দাবি, তিনি এলাকায় সালিশ মিমাংসা করেন বলে তাঁর অনেক শত্রু তৈরি হয়েছে। ওই নারী তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলছেন।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক প্রকাশক : জাহাঙ্গীর হোসেন
বার্তা সম্পাদক মিশন আলী
প্রধান উপদেষ্টা : সহকারী অধ্যাপক আনিসুর রহমান
অফিস: ৯ নম্বর সেক্টর উত্তরা ঢাকা ।
যোগাযোগ : ০৯৬৫৮-১৩৩৬৩৪
স্বাধীন বাংলা নিউজ 24.com লিমিটেড কর্তৃক প্রকাশিত।