নেছারাবাদে পল্লী চিকিৎসকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর অভিযোগ
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
/ ২৯
Time View
Update :
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
Share
পিরোজপুরের নেছারাবাদে ভুল চিকিৎসায় চারটি ছাগলের মৃত্যুর অভিযোগে পল্লী চিকিৎসক ও কৃত্রিম প্রজনন (এআই) কর্মী মো. সোহেলকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁকে হুমকি-ধমকি দেওয়া এবং তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও চেম্বারে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও তুলেছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ছাগলগুলোর চিকিৎসা ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন পল্লী চিকিৎসক মো. সোহেল।এর আগে গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেসন্ডা গ্রামে শহিদুল ইসলামের চারটি ছাগল মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেসন্ডা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম পেশায় একজন ভ্যানচালক। প্রথমে দুটি ছাগল কিনে লালন-পালন শুরু করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে তাঁর ছাগলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় সাতটিতে। এর মধ্যে চারটি ছাগল গর্ভবতী ছিল। গত দুই বছর ধরে তিনি স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক সোহেলের মাধ্যমে ছাগলগুলোর চিকিৎসা করিয়ে আসছিলেন।
সম্প্রতি ছাগলগুলো হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে শহিদুল ইসলাম পল্লী চিকিৎসক সোহেলকে ফোন করে বাড়িতে ডেকে আনেন। পরে সোহেল অসুস্থ ছাগলগুলোকে ইনজেকশন ও কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ করেন ছাগলের মালিক।শহিদুল ইসলামের দাবি, চিকিৎসা দেওয়ার পরপরই তিনটি ছাগল কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যায়। অপর ছাগলটিকে নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া ছাগলগুলো উন্নত জাতের যমুনাপাড়ি বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগও করেন শহিদুল ইসলাম।ছাগলের মৃত্যুর বিষয়ে যা বললেন পল্লী চিকিৎসক সোহেল
অভিযোগের বিষয়ে পল্লী চিকিৎসক মো. সোহেল বলেন, গত ১ অক্টোবর রাতে শহিদুল ইসলাম তাঁকে ফোন করে ছাগলের চিকিৎসার জন্য বাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, ছাগলগুলো পিপিআর রোগে আক্রান্ত।সোহেলের দাবি, পিপিআর একটি মারাত্মক রোগ হওয়ায় তিনি প্রথমে চিকিৎসা দিতে চাননি। তবে শহিদুল ইসলামের অনুরোধে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। ছাগলগুলোর পাতলা পায়খানা হওয়ায় অন্য ছাগলগুলোর জন্য কৃমিনাশক ওষুধও রেখে আসেন। তাঁর দাবি, ওই ওষুধের কারণে ছাগলগুলোর মৃত্যু হওয়ার কথা নয়।
তিনি আরও জানান, গত ১০ দিনে ছাগলগুলোর চিকিৎসার জন্য একাধিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। এমনকি পার্শ্ববর্তী কাউখালী উপজেলার পল্লী চিকিৎসক শিশির বাবুর কাছ থেকেও চিকিৎসা নেওয়া হয়।সোহেল বলেন, মারা যাওয়া ছাগলগুলোর মধ্যে একটি খাসি ছিল, যেটিকে তিনি কোনো চিকিৎসা দেননি। এ ছাড়া দুটি ছাগল ছিল অত্যন্ত অপুষ্টিতে আক্রান্ত। তাঁর ধারণা, মারাত্মক পিপিআর রোগে আক্রান্ত হয়েই ছাগলগুলোর মৃত্যু হয়েছে। পরে তিনি জানতে পারেন, মারা যাওয়া খাসি ছাগলটি জবাই করে খাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় খামারি আব্দুর রহমান বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবত সোহেল ভাইয়ের কাছ থেকে আমার ছাগলের চিকিৎসা নিয়ে আসছি। কয়েক বছর পূর্বে আমারও কয়েকটি ছাগল পিপিআর রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এছাড়া আমি সহ গ্রামের অনেকেই সোহেল ভাইয়ের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়ে উপকৃত হয়েছে। সোহাঙ্গোল গ্রামের গরুর খামারী জামাল হোসেন বলেন, আমার ৮ থেকে ১০ টি গরুছিল। বিগত চার পাঁচ বছর পূর্ব থেকেই সোহেল ভাইয়ের কাছ থেকে চিকিৎসা নেই। সে বাড়িতে আসার পর থেকেই আমি সহ গ্রামের সবাই তার কাছ থেকে গরু ছাগল হাঁস মুরগির চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।
এদিকে, ভুল চিকিৎসায় ছাগল মৃত্যুর অভিযোগ ওঠার পর পল্লী চিকিৎসক সোহেল নিজেও হুমকি-ধমকির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, ৩০ থেকে ৩৫ জন লোক সংঘবদ্ধভাবে এসে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও চেম্বারে ভাঙচুর চালায়। তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে হুমকি ও ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক প্রকাশক : জাহাঙ্গীর হোসেন
বার্তা সম্পাদক মিশন আলী
প্রধান উপদেষ্টা : সহকারী অধ্যাপক আনিসুর রহমান
অফিস: ৯ নম্বর সেক্টর উত্তরা ঢাকা ।
যোগাযোগ : ০৯৬৫৮-১৩৩৬৩৪
স্বাধীন বাংলা নিউজ 24.com লিমিটেড কর্তৃক প্রকাশিত।